বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ , ০৮:১৯ পিএম
কাঁদলে দুই থেকে তিন বছর বয়সী শিশুদের ওয়াশিং মেশিনের ভেতর বসিয়ে রাখা হতো। মুখ বন্ধ করতে জেট স্প্রে দিয়ে তীব্র বেগে মুখে ছিটানো হচ্ছে পানি। ভরতের বেঙ্গালুরুতে তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাপজেমিনির’ ডে-কেয়ার বা শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে শিশুদের ওপর এমন ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলা শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা তিলকেশ কুমার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ছোট্ট শিশুরা তো একটু কাঁদবেই, মা-বাবার জন্য মন খারাপ করবেই। কিন্তু সেই কান্না থামানোর জন্য অমানুষিক নির্যাতন কোনো সুস্থ মানুষের কাজ হতে পারে না।
জানা গেছে, ডে কেয়ার সেন্টারটিতে কান্না থামানোর জন্য একটা ফ্রন্ট-লোডিং ওয়াশিং মেশিনের ড্রামের ভেতর পুরে দেওয়া হতো দুই-তিন বছরের অবুঝ শিশুদের। সেখানেই শেষ নয়, বাথরুমের টয়লেট জেট স্প্রে দিয়ে সরাসরি তাদের মুখে পানি ছিটানো হতো, যাতে তারা চিৎকার করতে না পারে। দম বন্ধ করা বাথরুমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হতো তাদের।
এই ভয়ংকর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ওই ডে কেয়ারের পাঁচ নারী কেয়ারগিভার বা শিশু পরিচর্যাকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুরো ঘটনাটি আড়ালেই থেকে যেত, যদি না নির্যাতনের সেই গোপন ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হতো। ভিডিওগুলো ভাইরাল হতেই ইন্টারনেট জুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
নিজের সন্তানের ওপর এমন অমানুষিক অত্যাচারের দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন আইটি কোম্পানির চাকরিজীবী মা-বাবারা।
ভিডিওগুলো সামনে আসার পর শুধু পুলিশেই নয়, কর্ণাটক রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনেও একটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। করপোরেট অফিসগুলোর ভেতরে থাকা এ ধরনের চাইল্ড কেয়ার বা শিশু যত্ন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা আর নজরদারি নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠে গেছে। পুলিশ এরই মধ্যে ঘটনার তদন্তে নেমেছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আরটিভি/টিআর