বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৪০ পিএম
পাকিস্তানের আলোচিত টিকটকার আলী হায়দরাবাদী স্ত্রী জয়নাব আলীকে তালাক দেওয়ার মুহূর্ত ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করায় ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি পাকিস্তানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে আলীকে তার ভাইদের উপস্থিতিতে জয়নাবকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, আমি আমার ভাইদের সামনে তোমাকে তালাক দিচ্ছি। এরপরই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও প্রকাশের পর জয়নাব আলীও একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখা যায়। তিনি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের কাছে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়ে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের কাছে আমার আবেদন, আমাকে এই দানবের হাত থেকে বাঁচান। অনুগ্রহ করে আমাকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিন। আমার জীবন চরম বিপদের মধ্যে রয়েছে।
জয়নাবের অভিযোগ, তালাক দেওয়ার পাশাপাশি আলী তাকে গুরুতর পরিণতির হুমকিও দিয়েছেন। তার দাবি, আলী বলেছেন যে তার লাখ লাখ অনুসারী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে, যার প্রভাব খাটিয়ে তার ক্ষতি এমনকি হত্যাও করা হতে পারে।
এসব অভিযোগ সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টিকটকার আলী হায়দরাবাদী। পরে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় হাতে পবিত্র কুরআন নিয়ে তিনি জয়নাবের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের জবাবে আলী বলেন, তিনি কখনোই জয়নাবের হাত বা আঙুল ভাঙেননি। এছাড়া তালাকের ভিডিও ধারণের বিষয়ে তার দাবি, এটি সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের উদ্দেশ্যে নয়; বরং ভবিষ্যতের প্রয়োজনে প্রমাণ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল।
আলীর ভাষ্য, তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আগে থেকেই তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। সে কারণেই তিনি তালাকের পুরো প্রক্রিয়া ভিডিওতে ধারণ করেন।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জয়নাবের পরিবার তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে আলী বলেন, আমি কখনোই ভাবিনি যে জয়নাব এত নিচে নামতে পারে।
এ ঘটনায় এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
আরটিভি/এসকে