মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬ , ০৪:২৭ পিএম
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন দিয়ে এক ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
সোমবার(৬ জুলাই) ভোরের দিকে চালানো এই সমন্বিত হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে রাজধানীর বহু আবাসিক ভবন। খবর রয়টার্সের।
ইউক্রেনের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত ২৮ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে রাজধানী কিয়েভে। সেখানে ১৮ জন এবং কিয়েভের সংলগ্ন উপশহর এলাকার ৬ জন বাসিন্দা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া জাপোরিজ্জিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং সুমি প্রদেশে ২ জন করে বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার ভোরের দিকে কিয়েভ ও তার আশপাশের এলাকা, দক্ষিণ-পূর্ব জাপোরিজ্জিয়া এবং সুমি প্রদেশ লক্ষ্য করে মোট ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ৩৭টি ক্রুজ ও অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫১টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করেছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনীয় বাহিনী এই ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের ৯০ শতাংশ আকাশে ধ্বংস করতে পারলেও বাকি ১০ শতাংশ ড্রোন এবং ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কোনোটিই আটকাতে পারেনি। ফলে সেগুলো মূল ভূখণ্ডে আঘাত হেনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক বার্তায় ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহর ক্লাইমেঙ্কো বলেছেন, রুশ বাহিনীর এই ভয়াবহ হামলায় রাজধানী কিয়েভের অন্তত ৩০টি বহুতল আবাসিক ভবন পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেসব ভবনে জরুরি উদ্ধারকাজ চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ চাপা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এদিকে এই ভয়াবহ হামলার পর এক ভিডিওবার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশের অভ্যন্তরে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং দূরপাল্লার প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিগত লাইসেন্সের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ইউক্রেনের অস্ত্রাগারে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমই একমাত্র অস্ত্র যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে পারে। উচ্চ গতি এবং খাড়া গতিপথের কারণে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে সাধারণ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে থামানো কঠিন।
জেলেনস্কি বলেন, ‘এটা একেবারেই অযৌক্তিক যে আধুনিক বিশ্বে ব্যালিস্টিক সন্ত্রাস থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় এর উৎপাদন এখনো বাড়ানো হয়নি।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞান ইউক্রেনের আছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি উৎপাদন লাইসেন্স দেয়, তাহলে আমাদের উৎপাদন শুধু ইউক্রেনকে রক্ষা করার জন্যই নয়, বরং প্রয়োজনে সহযোগী দেশগুলোকে সহায়তা করার জন্যও যথেষ্ট হবে।’
আরটিভি/এআর