বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬ , ০৭:৫১ পিএম
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা যে শহরে, সেই মাশহাদেই বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় তেহরানের সঙ্গে শহরটির ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআরবি জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় মাশহাদগামী রেলপথটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, এই হামলায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতু ধ্বংস হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক রেলওয়ের একজন মুখপাত্র আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় যত দ্রুত সম্ভব এই রুটটি মেরামতের চেষ্টা চলছে। রাজধানী তেহরান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের মধ্যকার এই রেলপথটি ইরানের সবচেয়ে ব্যস্ততম রুট হিসেবে পরিচিত। সর্বোচ্চ নেতার দাফন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে মাশহাদ শহরে যখন লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে, ঠিক তখনই এই কৌশলগত যোগাযোগ অবকাঠামোতে মার্কিন আঘাত পুরো প্রক্রিয়াকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
এই হামলার ঘটনার ঠিক আগের দিন বুধবার (৮ জুলাই) ওয়াশিংটন থেকে সরাসরি কঠোর হুমকি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘গত রাতে আমরা ইরানে খুব কঠোরভাবে হামলা চালিয়েছি, খুবই কঠোরভাবে। সম্ভবত আজ রাতেও তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।’
ট্রাম্পের এই হুংকারের পরপরই ইরানের মাশহাদসহ বিভিন্ন বেসামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের দাবি, এর আগে ইরানকে সামান্য সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তারা নিজেদের সংশোধন করেনি, যার ফলে এই কঠোর পদক্ষেপ।
আরটিভি/এআর