সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ , ০১:৫৭ এএম
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই নিজের প্রায় ২ কোটি ইউয়ান (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬ কোটি টাকা) মূল্যের সম্পত্তি শৈশবের এক বন্ধুর নামে উইল করে চীনে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এক তরুণ।
সাংহাইয়ের বাসিন্দা লি (ছদ্মনাম) সম্প্রতি একটি নোটারাইজড উইল করেছেন। এতে তার মালিকানাধীন একটি ফ্ল্যাট এবং কয়েক মিলিয়ন ইউয়ানের সঞ্চয় শৈশবের বন্ধুর নামে রেখে গেছেন।
লির বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদের পর দুজনই নতুন করে সংসার শুরু করেন। পরে তারা যে ফ্ল্যাট ও সম্পত্তি ছেলেকে দিয়েছিলেন, সেটিই এখন তার প্রধান সম্পদ। তবে ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের সঙ্গে খুব বেশি সময় কাটানোর সুযোগ হয়নি। ফলে তাদের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
চরম ঝুঁকিপূর্ণ খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী লির আশঙ্কা, কোনো দুর্ঘটনায় যদি তার মৃত্যু হয়, তাহলে বাবা-মায়ের বর্তমান স্বামী-স্ত্রী (যাদের তিনি নিজের জীবনের অংশ বলে মনে করেন না) ভবিষ্যতে তার সম্পত্তির সুবিধাভোগী হতে পারেন। সে কারণেই তিনি শৈশবের বিশ্বস্ত বন্ধুকেই উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করেছেন।
চীনের উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি উইল ছাড়া মারা গেলে তার স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং বাবা-মা প্রথম শ্রেণির উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তির অধিকার পান। সে ক্ষেত্রে লির বাবা-মা সম্পত্তির মালিক হলে ভবিষ্যতে তাদের বর্তমান জীবনসঙ্গীরাও সেই সম্পদের ওপর অধিকার পেতে পারেন।
তবে দেশটির আইন একজন নাগরিককে উইলের মাধ্যমে আইনগত উত্তরাধিকারীদের বাইরে অন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের নামে সম্পত্তি দিয়ে যাওয়ার সুযোগও দিয়েছে।
লি সাংহাইয়ের চায়না উইল রেজিস্ট্রেশন সেন্টারে গিয়ে তার উইল নিবন্ধন করেন। কেন্দ্রটির কর্মকর্তা হুয়াং হাইবো জানান, উইল কার্যকর হওয়ার পর ৬০ দিনের মধ্যে লির বন্ধুকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরাধিকার গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে তিনি ওই সম্পত্তির অধিকার হারাবেন।
২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান চায়না উইল রেজিস্ট্রেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে চার লাখের বেশি উইল নিবন্ধিত হয়েছে। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চীনে উইল করার প্রবণতা বাড়ছে এবং উইলকারীদের গড় বয়স ৭৭ বছর থেকে কমে ৬৭ বছরে নেমে এসেছে।
হুয়াং হাইবো বলেন, আশির, নব্বইয়ের দশক এবং ২০০০ সালের পর জন্ম নেওয়া তরুণদের মধ্যেও এখন উইল করার প্রবণতা বাড়ছে। উইল এখন আর শুধু বয়স্কদের বিষয় নয়, এটি ধীরে ধীরে সাধারণ আর্থিক পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠছে।
ঝেজিয়াং প্রদেশের এক নোটারি কর্মকর্তা স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে অনেক তরুণ বিয়ের আগে নিজের নামে থাকা বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি সুরক্ষিত রাখতে উইল করছেন। পাশাপাশি অবিবাহিত ও নিঃসন্তানদের মধ্যেও এ প্রবণতা বাড়ছে।
লির সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ বলছেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব থাকলেও তারাই ছেলেকে বিপুল সম্পত্তি দিয়েছেন, তাই তাদের উত্তরাধিকারী হওয়াই স্বাভাবিক। আবার অনেকের মতে, মাত্র ১৯ বছর বয়সে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া তাড়াহুড়ো হয়ে গেছে, ভবিষ্যতে তার মত পরিবর্তনও হতে পারে। অন্যদিকে অনেকেই শৈশবের বন্ধুর প্রতি লির আস্থা ও বন্ধুত্বের মূল্যায়নের প্রশংসা করেছেন। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
আরটিভি/এমএইচজে