মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ০৪:৫৪ পিএম
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ভারি বর্ষণের সময় একটি বাড়ির ছাদ ধসে নারীসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেশটির প্রাদেশিক সরকারের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। খবর আরব নিউজের।
প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ জানায়, খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাত জেলার লাচি তহসিলের মালাগিন এলাকায় গত রাতে তীব্র বর্ষণের একপর্যায়ে একটি বাড়ির ছাদ ধসে পড়ে। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠান।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার তথ্যমন্ত্রী শফি জান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় নারীসহ ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’ তিনি জানান, দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’-এর কর্মীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছেন। আহত ব্যক্তিরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রাদেশিক সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
পাকিস্তানে বার্ষিক মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা প্রদেশগুলোর অন্যতম এই খাইবার পাখতুনখাওয়া। এখানকার গ্রামীণ এলাকার মানুষের একটি বড় অংশ এখনও কাদামাটি ও পুরোনো ভাঙাচোরা ইটের তৈরি জরাজীর্ণ বাড়িতে বসবাস করেন, যা দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির সময় সহজেই ধসে পড়ে। এছাড়া পাহাড়ি এলাকা হওয়ার কারণে এখানে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে।
পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুন থেকে শুরু হওয়া এই মৌসুমের বৃষ্টি ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত ২৬ জন নিহত এবং ৯১ জন আহত হয়েছেন।
সরকারি এই পরিসংখ্যান আরও বলছে, এই সময়ের মধ্যে আবহাওয়া-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর অর্ধেকই ঘটেছে ঘরবাড়ি ধসের কারণে। চলমান এই দুর্যোগে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ইতিমধ্যে ৭৫টি বাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৮টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
আরটিভি/এআর