images

আন্তর্জাতিক / মধ্যপ্রাচ্য

হঠাৎ যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করলেন নেতানিয়াহু, নেপথ্যে কী?

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ , ০৪:২৯ পিএম

প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যানুষ্ঠান পিছিয়ে যাওয়ায় নিজের নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে সফর স্থগিতের এই খবর নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী শনিবার (১৮ জুলাই) ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিল নেতানিয়াহুর। সেখানে গিয়ে ২১ জুলাই মঙ্গলবার পর্যন্ত তার অবস্থান করার কথা ছিল। মূলত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতেই এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা পিছিয়ে যাওয়ায় নেতানিয়াহু তার সফর স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে পারেন। লিন্ডসে গ্রাহামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া যে সময় পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে, সেই সময়কে সামনে রেখেই নতুন সফরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে শেষকৃত্যের নতুন সময়সূচি জানানোর পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন সফর চূড়ান্ত করা হবে।

সম্প্রতি প্রয়াত হওয়া মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ছিলেন ইসরায়েলের অন্যতম কট্টর ও প্রভাবশালী সমর্থক। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে রিপাবলিকান দলের এই প্রবীণ নীতি নির্ধারক দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের ইসরায়েলপন্থী নীতি প্রণয়নে বড় ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে ইসরায়েলের সামরিক সহায়তা সচল রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লিন্ডসে গ্রাহাম সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

মিয়ানমারের উপকূলে নৌকাডুবে ৫০০ জনের বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রয়াত এই সিনেটরের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও রাজনৈকিত ঘনিষ্ঠতা ছিল। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে তাদের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। এ কারণেই লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নেতানিয়াহু।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই মার্কিন সফর কেবল একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সফরের বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও গাজা যুদ্ধ ঘিরে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে তেল আবিবের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল। ওয়াশিংটনে অবস্থানকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও নেতানিয়াহুর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়টিও এই সফরে আলোচনার টেবিলে আসার সম্ভাবনা ছিল। তবে শেষকৃত্যানুষ্ঠান পিছিয়ে যাওয়ায় কূটনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া এই বড় আলোচনার গতি কিছুটা থমকে গেল।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সফর পিছিয়ে গেলেও মার্কিন নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। চলতি জুলাই মাসের শেষ দিকে যখন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে পৌঁছাবেন, তখন নির্ধারিত সব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কর্মসূচি আগের মতোই বহাল রাখা হবে।

আরটিভি/এআর