বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ , ০৯:১১ পিএম
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে টানা কয়েক সপ্তাহের তীব্র খরার পর নেদারল্যান্ডসে ভয়াবহ পানি সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটিজুড়ে পানি সংকটের ঘোষণা দিয়েছে নেদারল্যান্ডস সরকার। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির কর্তৃপক্ষ জাতীয় খরা মোকাবিলা সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে ‘লেভেল-২’ এ উন্নীত করেছে বলে জানিয়েছে ডাচ সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনওএস।
নেদারল্যান্ডসের জাতীয় পানি বণ্টন সমন্বয় কমিটির সুপারিশে খরা সতর্কতার মাত্রা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির অবকাঠামো ও পানি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহও এই তীব্র পানির সংকট ও শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় দেশটির বন্যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও খরা-সংবেদনশীল বাঁধের সুরক্ষাকে এখন প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর পরের ধাপে পানীয় জলের সরবরাহ এবং জ্বালানি উৎপাদনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, নেদারল্যান্ডসে প্রবাহিত নদীগুলোর পানি লোবিথ এলাকায় ১৯৭৬ সালের পর এবারই সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজন হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে লিমবার্গ প্রদেশে কৃষিজমিতে সেচসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূপৃষ্ঠের পানি ব্যবহারের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
অবকাঠামো ও পানি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী সংস্থা রাইক্সওয়াটারস্টাট জানিয়েছে, বর্তমানে পানীয় জলের সরবরাহে সরাসরি কোনো ঝুঁকি নেই। তবে চলমান শুষ্ক মৌসুমে দেশের সব নাগরিককে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সাশ্রয়ীভাবে পানি ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতীয় পানি বণ্টন সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, এবারের পানির সংকট স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গত কয়েক দশকে ইউরোপের এই দেশে খরার ঝুঁকি ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও তারা সতর্ক করেছে।
এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালের আগস্টে নেদারল্যান্ডস খরা সতর্কতা ‘লেভেল-২’ জারি করেছিল। আর দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ‘লেভেল-৩’ খরা সতর্কতা সর্বশেষ ঘোষণা করা হয়েছিল ২০০৩ সালে। জলবায়ু পরিবর্তনের এমন বিরূপ প্রভাবে ডাচ অর্থনীতি, নৌ-পরিবহন ও কৃষিখাত বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরটিভি/এআর