শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ , ০৭:৪৩ পিএম
ইরানে রাতভর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে প্রথমবারের মতো সামরিক স্থাপনাগুলোর পাশাপাশি সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনের মতো বেসামরিক স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ ঘটনার পর নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে জরুরি বার্তা দিয়েছে ইরান।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর মার্কিন হামলার পর বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের এলাকাগুলো বর্তমানে তীব্র তাপপ্রবাহের পাশাপাশি বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলার প্রভাব মোকাবিলা করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, সঞ্চালন লাইন নাকি অন্য কোনো সরঞ্জামের ওপর হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
এদিকে মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির এসব হামলায় কুয়েতের একটি পানি শোধনাগার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় ইরান দেশটির একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এতে স্থাপনাটিতে আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। কারিগরি দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটগুলো মেরামত করে পুনরায় চালু করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ গ্রিডের স্থিতিশীলতাও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় নাগরিক ও বাসিন্দাদের যৌক্তিকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে ইরান দাবি করেছে, কুয়েতের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে দেশটির হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম (হিমারস) প্ল্যাটফর্ম ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী ও ইসরায়েল-সমর্থিত যোদ্ধারা এসব স্থাপনায় অবস্থান করছিল।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানি হামলায় ‘বিপুলসংখ্যক বিপ্লববিরোধী ও মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সদস্য’ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি পাল্টা অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইরানের তিনটি সেতু, একটি রেলস্টেশন এবং একটি বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, মার্কিন হামলায় দেশটির আরও কয়েকটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের আহভাজ, কেশম, বুশেহের, দাশতি, বোস্তান, সিরিক, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ, বন্দর-ই-খামির, বন্দর আব্বাস শহর এবং হরমুজগান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারের বিমান অভিযান চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
আরটিভি/এমএ