শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৪২ এএম
গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন একটি জানাজার শোভাযাত্রায় অংশ নিতে জড়ো হয়েছিলেন। এসব হামলায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা ও আল-আওদা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, আহমাদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে জানাজার শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় একটি ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালায়। নিহতরা এর আগে একই এলাকায় পৃথক হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজায় অংশ নিতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।
হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, মধ্য গাজায় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। তবে এতে সাধারণ মানুষের হতাহতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা।
অন্যদিকে হামলার নিন্দা জানিয়েছে হামাস। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে তা লঙ্ঘন করে বেসামরিক মানুষকে হত্যা এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করে যাচ্ছে।
এদিন গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়া শহরে একটি বিদ্যালয়ের কাছে ড্রোন থেকে ফেলা বোমায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। এছাড়া মধ্য গাজার আজ-জাওয়াইদা এলাকায় আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।
নুসেইরাতের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে হামলায় একজন নিহত হন। গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত এবং শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। একই দিনে খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইসরাইলি গুলিতে আহত এক নারীরও মৃত্যু হয়েছে।
গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই হামলার ঘটনা ঘটছে। গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের পর থেকে হামলার সংখ্যা বেড়েছে। গত মাসে ৪০টির বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা যুদ্ধবিরতি শুরুর পর সর্বোচ্চ।
এদিকে ইসরায়েলি দৈনিক হারেটজ দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে গাজায় ২৭৪ শিশু নিহত হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন একজন শিশুর প্রাণহানি ঘটছে। আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়লেও গাজায় সহিংসতা থামার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
আরটিভি/জেএমএ