images

আন্তর্জাতিক

‘ভূতের বাড়ি’তে রাত কাটালেই মিলছে রাশি রাশি টাকা

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ০৯:০৫ পিএম

জাপানে আবাসন খাতে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এক ব্যতিক্রমী পেশা। সাহসী ব্যক্তিদের পারিশ্রমিক দিয়ে এমন বাড়িতে এক রাত কাটানোর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, যেগুলোকে স্থানীয়ভাবে ‘ভৌতিক’ বা ‘অতিপ্রাকৃত’ বাড়ি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

স্থানীয়ভাবে এসব বাড়িকে বলা হয় ‘জিকো বুক্কেন’। সাধারণত যেসব বাড়িতে অতীতে হত্যা, আত্মহত্যা, অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু বা একাকী মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো এই শ্রেণির আওতায় পড়ে। জাপানের আইন অনুযায়ী, এমন বাড়ি বিক্রি বা ভাড়া দেওয়ার আগে সম্ভাব্য ক্রেতা বা ভাড়াটিয়াকে ওই ঘটনার তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক। ফলে অনেকেই এসব বাড়ি এড়িয়ে চলেন এবং বছরের পর বছর সেগুলো খালি পড়ে থাকে।

এই সমস্যা সমাধানে নতুন ধরনের সেবা চালু করেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। তারা বিশেষভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ওই বাড়িতে এক রাত অবস্থান করতে পাঠায়। এই কাজের জন্য একজন কর্মী পান ৮৮ হাজার ইয়েন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৭ হাজার টাকা।

রাত কাটানোর সময় বাড়ির বিভিন্ন স্থানে ক্যামেরা ও অন্যান্য পর্যবেক্ষণ যন্ত্র বসিয়ে পুরো বাড়ি নজরদারিতে রাখা হয়। যদি পুরো রাত কোনো অস্বাভাবিক বা অতিপ্রাকৃত ঘটনার প্রমাণ না মেলে, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি একটি সনদ দেয়। সেখানে উল্লেখ থাকে যে, বাড়িটিতে কোনো অতিপ্রাকৃত কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কিছু প্রতিষ্ঠান আরও এক ধাপ এগিয়ে ক্রেতাদের জন্য বিশেষ নিশ্চয়তাও দিচ্ছে। তাদের দাবি, কোনো বাড়িকে নিরাপদ ঘোষণা করার পর ভবিষ্যতে যদি সত্যিই অতিপ্রাকৃত ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানে জন্মহার কমে যাওয়া, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শহরমুখী জনসংখ্যার কারণে দেশজুড়ে খালি বাড়ির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর মধ্যে যেসব বাড়িতে অতীতে অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে, সেগুলো সাধারণত একই ধরনের অন্য বাড়ির তুলনায় ২০ থেকে ৫০ শতাংশ কম দামে বিক্রি বা ভাড়া দেওয়া হয়।

তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। বিশেষ করে কম দামে ভালো বাড়ি কিনতে আগ্রহী তরুণদের একটি অংশ কুসংস্কারের চেয়ে অর্থনৈতিক সুবিধাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে এসব বাড়ির প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে।

আরও পড়ুন
india

ভারতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৮

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এই ব্যতিক্রমী পেশার উদ্দেশ্য মানুষের মনে থাকা ভৌতিক বাড়ি নিয়ে ভয় ও কুসংস্কার দূর করা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকা বাড়িগুলোকে আবার আবাসন বাজারে ফিরিয়ে আনা এবং মালিকদের জন্য ক্রেতা বা ভাড়াটিয়া খুঁজে পাওয়া সহজ করাই এর মূল লক্ষ্য। আবাসন ব্যবসা ও তথাকথিত ভূত অনুসন্ধানের ধারণাকে একত্র করে গড়ে ওঠা এই পেশা এখন জাপানের সবচেয়ে আলোচিত ও ব্যতিক্রমী বিশেষায়িত পেশাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
 
আরটিভি/এসকে