images

আন্তর্জাতিক

শতাধিক যাত্রী নিয়ে গায়ানা উপকূলে ডুবল ফেরি 

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫৭ এএম

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানার উপকূলে শতাধিক আরোহী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে গেছে। ফেরিটিতে ১১৬ জন যাত্রী ও নাবিক ছিলেন এবং দুর্ঘটনার পর এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও বহু মানুষ। 

এটিকে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ নৌ দুর্ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে মনে করা হচ্ছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ জুলাই) গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫ শিশুসহ ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এখনো নিখোঁজ থাকা যাত্রীদের উদ্ধারে বড় পরিসরে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে।

শনিবার বিকেল প্রায় ৩টা ১৫ মিনিটে গায়ানার রাজধানী জর্জটাউন থেকে তেলসমৃদ্ধ এসেকুইবো অঞ্চলের পোর্ট কাইতুমার উদ্দেশে যাত্রা করে এমভি বারিমা নামের ওই ফেরিটি। এসেকুইবো অঞ্চলটি ভেনেজুয়েলার সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।

আরও পড়ুন
irn

গভীর রাতে ইরানে ফের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ

রাত ১১টার কিছু পর বিপদসংকেত পাওয়ার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এতে অংশ নেয় গায়ানা ডিফেন্স ফোর্সের কোস্ট গার্ড ও এয়ার কর্পস, বেসরকারি উড়োজাহাজ, মাছ ধরার নৌযান এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা।

গায়ানার গণপূর্তমন্ত্রী হুয়ান এডঘিল বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ফেরিটি অতিরিক্তি যাত্রী বহন করছিল না। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ইঞ্জিন বা অন্য কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। অতিরিক্ত যাত্রী বা মালামালও ছিল না। দুর্ঘটনাটি জোয়ারের কারণে ঘটেছে।

তিনি জানান, এমভি বারিমা ৩৯৭ জন যাত্রী এবং ২৮৪ টন মালামাল বহনের অনুমোদন পেয়েছিল। যাত্রার সময় এতে ২৬৮ টন মালামাল ছিল, যা অনুমোদিত সীমার নিচে। তার ভাষ্য, ফেরিটিতে ২৫০টি লাইফ জ্যাকেট, দুটি লাইফবোট এবং ফোলানো যায় এমন ভেলা ছিল ছয়টি।

এদিকে, রোববার (১৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে গায়ানার প্রধানমন্ত্রী মার্ক ফিলিপস জানান, নিখোঁজদের খুঁজতে অনুসন্ধান এলাকা ৪০০ বর্গকিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০ বর্গকিলোমিটার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ ও নৌযান যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জলসীমা সম্পর্কে অভিজ্ঞ জেলেদেরও কাজে লাগানো হচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া ৬৭ জনের মধ্যে ৪১ জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং ১৫ জন শিশু রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেরিতে থাকা যাত্রী ও নাবিকদের তালিকায় থাকা সবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। জাহাজে থাকা প্রত্যেকের সন্ধান পেতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরটিভি/এমএম