মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ১১:৪৩ এএম
ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের অনশনে থাকা ভারতীয় প্রকৌশলী, সমাজকর্মী, উদ্ভাবক, শিক্ষা সংস্কারক এবং পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙতে তিনটি শর্ত দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, হাসপাতালে তার চলাফেরা, বক্তব্য দেওয়া ও যোগাযোগের স্বাধীনতা সীমিত করে রাখা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সাফদারজং হাসপাতাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ওয়াংচুক জানান, আগামী ২০ জুলাই তিনটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ হলে তিনি অনশন ভাঙবেন।
তার প্রথম শর্ত হলো, প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ সাম্প্রতিক শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় সরকারকে স্বীকার করতে হবে।
দ্বিতীয় শর্তে তিনি বলেন, যদি তিনি এবং ককরোচ জনতা পার্টি–এর নেতৃত্ব সংসদ ভবনের সামনে পৌঁছাতে পারেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য ও নেতারা আশ্বাস দেন যে তারা এ বিষয়গুলো সংসদে উত্থাপন করবেন, তাহলে তিনি অনশন শেষ করবেন।
তৃতীয় শর্তে তিনি বলেন, যদি শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে সংসদে যাওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্য ও নেতারা হাসপাতালে এসে একই আশ্বাস দিলেও তিনি অনশন ভাঙবেন।
বার্তার শেষে সোনম ওয়াংচুক দাবি করেন, তিনি সাফদারজং হাসপাতালে ‘অবৈধভাবে আটকে’ আছেন। সেখানে তার চলাফেরা, মত প্রকাশ এবং যোগাযোগের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছে।
এর আগে তিনি আরেকটি বার্তায় ২০ জুলাইয়ের সংসদ চলো কর্মসূচিকে ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন বলে উল্লেখ করেন এবং সমর্থকদের কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান।
এদিকে, সংসদ চলো কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
গত ২৮ জুন থেকে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনে যোগ দিয়ে অনির্দিষ্টকালের অনশনে রয়েছেন সোনম ওয়াংচুক।
দীর্ঘদিন অনশনে থাকার কারণে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার (১৮ জুলাই) তাকে জোরপূর্বক নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রশাসন তুলে নিয়ে সাফদারজং হাসপাতালে ভর্তি করে বলে অভিযোগ উঠে। পরে দিল্লি উচ্চ আদালত জানায়, তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় হাসপাতালে ভর্তি করার সরকারি সিদ্ধান্ত ইচ্ছাকৃত বা অযৌক্তিক নয় এবং চিকিৎসকেরা তার স্বাস্থ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
আরটিভি/জেএমএ