বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ০৫:৪৮ পিএম
মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর মামলার শাস্তি এড়াতে নিজের মৃত্যুর ভুয়া নাটক সাজিয়েছিলেন মধ্য চীনের এক ব্যক্তি। পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তিনি নিজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে শত শত কিলোমিটার দূরে পালিয়ে যান।
তবে কয়েক মাসের তদন্তের পর পুলিশ তাকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করেছে।
সম্প্রতি চীনের হেনান প্রদেশের আনইয়াংয়ের প্রসিকিউটররা এই ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। এরপর ঘটনাটি দেশটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ‘সি’ পদবিতে পরিচিত ওই ব্যক্তিকে গত বছরের জানুয়ারিতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে আটক করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, এর আগেও তিনি দুবার মদ্যপ অবস্থায় এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন। পরে চলমান মামলায় তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। চীনের আইনে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ অপরাধে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল, সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, কারাদণ্ডের আশঙ্কায় সি আত্মগোপনের পরিকল্পনা করেন। তার ধারণা ছিল, নতুন করে দোষী সাব্যস্ত হলে আগের অপরাধের রেকর্ড এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের কারণে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা তার পক্ষে কঠিন হয়ে যাবে। এই কারণে গত বছরের জুনে তিনি নিজের মৃত্যুর ভুয়া নাটক সাজান। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আগে থেকেই একটি কফিন কিনে রাখেন। এরপর বাড়ির চারপাশে খালি ওষুধের বোতল ছড়িয়ে দেন, যেন মনে হয় অতিরিক্ত ওষুধ খেয়ে তিনি মারা গেছেন।
এরপর তিনি নিঃশ্বাস আটকে সম্পূর্ণ স্থির হয়ে শুয়ে থাকেন। শরীর ঠান্ডা দেখানোর জন্য শীতল করার যন্ত্রও ব্যবহার করেন।
পরে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, অতিরিক্ত ওষুধ সেবনের কারণে তিনি মারা গেছেন। তারা আরো বলেন, তার মুখ বিকৃত হয়ে যাওয়ায় সেটি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সন্ধ্যা হওয়ার আগেই সির মা ও দাদি দ্রুত কফিনটি দাফন করেন। এদিকে সি গোপনে শত শত কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইউনান প্রদেশে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি নতুন করে কাজ খোঁজার চেষ্টা শুরু করেন। সির মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু ততক্ষণে কফিন দাফন করা হয়ে গিয়েছিল।
তবে কয়েকটি বিষয় পুলিশের সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তদন্তে দেখা যায়, পরিবারের কেউ জরুরি চিকিৎসা সহায়তা চাননি। কফিন আগে থেকেই কেনা ছিল। এ ছাড়া মৃত্যুর কোনো সরকারি সনদ, দাহ বা দাফনের সরকারি নথি কিংবা পারিবারিক নিবন্ধন থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার কোনো রেকর্ডও পাওয়া যায়নি। পুলিশ আরো জানতে পারে, সির মা ও দাদি ছাড়া অন্য কেউ তার মরদেহ দেখেনি। কারণ পুরো সময় তার মুখ ঢাকা ছিল। পরে পুলিশ নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য এবং মোবাইল ফোনের অবস্থান বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়, সি আসলে জীবিত। এরপর তাকে খুঁজে বের করতে অভিযান শুরু হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে ইউনান প্রদেশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরের মাসে আদালত তাকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ২০ হাজার ইউয়ান (প্রায় ৩ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানাও করা হয়। এদিকে, ১১ জুন সির মা ও দাদির বিরুদ্ধেও একজন অপরাধীকে লুকিয়ে রাখা এবং তাকে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি প্রকাশের পর চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি না চালানো কি এতই কঠিন? শাস্তি এড়াতে তিনি এত বড় নাটক করলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধরা পড়তেই হলো।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘পরিবার তাকে বাঁচাতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারাও আইনি ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছে।’
আরটিভি/এসএস