বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ০৯:১৯ পিএম
খাবারের ডেজার্ট বা মিষ্টি উপাদান সাজাতে পিঁপড়ার ব্যবহার করায় আইনি জটিলতায় পড়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের এক নামি রেস্তোরাঁর মালিক। দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রসিকিউটররা আদালতে অভিযুক্ত ওই রেস্তোরাঁ মালিকের এক বছরের কারাদণ্ড এবং দুই কোটি কোরিয়ান ওন জরিমানার আবেদন জানিয়েছেন।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার খাদ্য স্যানিটেশন আইন অনুযায়ী মানবখাদ্যে ব্যবহারের জন্য মাত্র ১০টি নির্দিষ্ট প্রজাতির পোকামাকড় অনুমোদিত। যার মধ্যে ঘাসফড়িং, পঙ্গপাল ও ঝিঁঝি পোকা থাকলেও পিঁপড়ার নাম নেই। অনুমোদনহীন উপাদান পরিবেশন করায় এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে কোনো গ্রাহকের অভিযোগ থেকে এই তদন্ত শুরু হয়নি; খাদ্য ও ওষুধ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অনলাইনে ওই খাবারের ছবি দেখে স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তে নামেন।
তদন্তকারীদের ধারণা, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ৪৯ হাজার পিঁপড়া চার বছর ধরে রেস্তোরাঁটির বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করা হয়েছে।
রেস্তোরাঁর মালিক আদালতে বিষয়টি স্বীকার করলেও দাবি করেন, এটি ১৫ পদের টেস্টিং মেন্যুর সামান্য অংশ ছিল এবং গ্রাহকদের পছন্দের স্বাধীনতা ছিল। প্রায় ৬০ শতাংশ অতিথি স্বেচ্ছায় পিঁপড়া দেওয়া খাবার বেছে নিয়েছিলেন বলে তিনি জানান। ইউরোপ-আমেরিকার নামীদামি রেস্তোরাঁতেও এমন রীতির প্রচলন আছে বলে যুক্তি দেন তিনি।
তবে প্রসিকিউটরদের বক্তব্য, দক্ষিণ কোরিয়ার খাদ্য নিরাপত্তা আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। অনুমোদনহীন এই ডেজার্টটি ১২ হাজার ২০০ বারের বেশি পরিবেশন করে রেস্তোরাঁটি বিপুল অর্থ আয় করেছে। সিউলে দুটি করে মিশেলিন স্টার থাকা মাত্র ১০টি রেস্তোরাঁর একটিতে ঘটে যাওয়া এ মামলার রায় আগামী ২ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হতে পারে।
আরটিভি/এআর