শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৬:০৩ পিএম
চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের একটি গবেষণাগারে ক্লোনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নত বৈশিষ্ট্যের ‘সুপার ইয়াক’ তৈরির কাজ চলছে। গবেষকদের লক্ষ্য দ্রুত বর্ধনশীল, রোগ প্রতিরোধক্ষম, অধিক প্রজননক্ষম এবং আকারে বড় ‘অভিজাত’ ইয়াকের পাল গড়ে তোলা। একই সঙ্গে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা বিরল বন্য ইয়াক সংরক্ষণেও এ প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সহায়তায় পরিচালিত এই প্রকল্পের আওতায় ২০২৮ সালের মধ্যে শতাধিক উন্নত বৈশিষ্ট্যের ক্লোন ইয়াক উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গবেষকদের দাবি, এ উদ্যোগ তিব্বতের ইয়াক শিল্পকে আরও লাভজনক ও টেকসই করবে এবং বিরল ‘গোল্ডেন ওয়াইল্ড ইয়াক’ সংরক্ষণেও সহায়ক হবে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রথম সফল ক্লোন ইয়াকের জন্ম হয়। এরপর চলতি বছরের বসন্তে আরও ১০টি ক্লোন বাছুরের জন্ম হয়েছে। প্রকল্পপ্রধান ফাং শেংগুও বলেন, ইয়াক ক্লোনিং এখন আর পরীক্ষামূলক পর্যায়ে নেই; এটি বৃহৎ পরিসরে প্রয়োগের সক্ষমতা অর্জন করেছে।
তবে প্রকল্পটি নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠেছে। গবেষণা পদ্ধতি, ব্যর্থ ভ্রূণ প্রতিস্থাপন, গর্ভপাত, মৃত বা বিকলাঙ্গ বাছুরের সংখ্যা এবং সারোগেট মা ইয়াকের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে প্রাণীর কল্যাণ ও গবেষণার স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত উন্নত বৈশিষ্ট্যের ইয়াক উৎপাদন সম্ভব হলেও একই জিনের বিপুলসংখ্যক প্রাণী তৈরি হলে জিনগত বৈচিত্র্য কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি ক্লোনিং প্রক্রিয়ায় প্রাণীদের অপ্রয়োজনীয় দুর্ভোগের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তিব্বতের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে ইয়াকের গুরুত্ব অপরিসীম। জলবায়ু পরিবর্তন, আবাসস্থল ধ্বংস, অন্তঃপ্রজনন এবং সংকরায়ণের কারণে বন্য ও গৃহপালিত উভয় ধরনের ইয়াকই বিভিন্ন সংকটে রয়েছে। এ কারণে চীনা কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইয়াকের সংখ্যা ও গুণগত মান উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ করেছে।
এদিকে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের জীব-নৈতিকতাবিদ লিসা মোজেস বলেন, প্রকল্পটির প্রকৃত সাফল্য মূল্যায়নের জন্য প্রাণীদের ওপর এর প্রভাব, নৈতিক তদারকি এবং গবেষণার স্বচ্ছতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের জুলিয়ান সাভুলেস্কুর মতে, ক্লোনিং প্রযুক্তি যদি অধিক সুস্থ ও উৎপাদনশীল প্রাণী তৈরি করতে পারে, তবে তা সংরক্ষণ ও কৃষি খাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তিটি এখনও পুরোপুরি নির্ভুল নয় এবং এতে জিনগত ত্রুটি বা স্বাস্থ্যগত জটিলতার ঝুঁকি রয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে তিব্বতের ‘সুপার ইয়াক’ প্রকল্পকে একদিকে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হলেও, অন্যদিকে প্রাণিকল্যাণ, জিনগত বৈচিত্র্য এবং গবেষণার স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য কতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, তা সময়ই বলে দেবে।
আরটিভি/এসকে