রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬ , ১২:১১ পিএম
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে রাতভর তাণ্ডব চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েলের অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা। হামলা চালিয়ে তারা নাবলুসের কুসরা গ্রামের একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। কেবল তা-ই নয়, অগ্নিসংযোগের পর ওই মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় লিখে দিয়ে এসেছে ‘প্রতিশোধ’।
একই রাতে উত্তর-পূর্ব রামাল্লার আল-মুগাইর গ্রামে হামলাও চালায় সশস্ত্র বসতিস্থাপনকারীরা। সেখানে ফিলিস্তিনিদের একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হামলকারী ইসরায়েলিরা ফিলিস্তিনিদের গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে এবং বিভিন্ন সংযোগ সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখে। স্থানীয় ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, সশস্ত্র বসতিস্থাপনকারীরা একটি গ্রামের প্রধান ফটক আটকে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেখানে একটি সাধারণ ফিলিস্তিনি গাড়ি এলে সেটিকে গ্রামে ঢুকতে না দিয়ে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে পশ্চিম তীরের তেল নামের একটি গ্রামে অতর্কিতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা। তখন ফিলিস্তিনিরা তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে এক ফিলিস্তিনি আক্রমণকারীদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পাল্টা হামলা চালালে দুই ইসরায়েলি নিহত হয়। পরবর্তীতে দখলদার বাহিনীর অতর্কিত গুলিতে চার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান।
সংঘাতের এই ঘটনায় নিজেদের গ্রামে অবস্থানরত ও আত্মরক্ষা করা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের উল্টো ‘সন্ত্রাসী’ বলে দাবি করছে ইসরায়েলি প্রশাসন। অন্যদিকে অবৈধভাবে অস্ত্র নিয়ে গ্রামে ঢুকে হামলা চালানো ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা।
আরটিভি/এআর