সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৪৩ এএম
ভারতের তরুণদের নিয়ে প্রচলিত ধারণা ছিল—তারা শুধুই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত থাকে কিংবা কোনো বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। তবে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) ব্যানারে জেন-জি তরুণদের গড়ে তোলা অভূতপূর্ব প্রতিবাদ সেই ধারণা পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
জেন-জি (নতুন প্রজন্ম) আন্দোলনকারীদের টানা বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে অবশেষে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তরুণদের এই ঐতিহাসিক লড়াই এখন কেবল ভারতের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই; এর ঢেউ ও প্রশংসা আছড়ে পড়েছে শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ ও খোলামেলা প্রতিক্রিয়া এসেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান থেকে। দেশটির তরুণেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের এমন অভূতপূর্ব ঐক্যের প্রশংসা করে নিজেদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন। খবর ইন্ডিয়া টুডের
ভারতের এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর ডিজিটাল প্রচার কৌশল। প্রচলিত রাজনৈতিক ইশতেহার বাদ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মিম, ইনস্টাগ্রাম রিলস এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিওর মাধ্যমে তরুণদের রাজপথে সংগঠিত করা হয়। আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দমন-পীড়নের ভিডিওগুলো সরাসরি নথিভুক্ত ও প্রচার করে সোচ্চার ভূমিকা রাখে তারা।
পাকিস্তানি কনটেন্ট ক্রিয়েটর বিলাল হাসান আন্দোলনের পেছনে পাকিস্তানি অর্থায়নের অভিযোগকে ব্যাঙ্গাত্মকভাবে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘মানুষ বলছে পাকিস্তান নাকি এই আন্দোলনে অর্থায়ন করেছে! অথচ আমাদের নিজেদের দেশ চালানোরই টাকা নেই, আমরা তাদের টাকা দেব কীভাবে?’
নিজ দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনগণের নীতিগত অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘ভারতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করছে, আর আমাদের দেশে তো মানুষকেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। কেউ বেলুচ হলে সে বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে, তা-ও জানা যায় না। এখানে এক প্লেট বিরিয়ানির জন্যই মানুষ বিক্রি হয়ে যায়।’
পাকিস্তানের তরুণদের একাংশ জানান, তাদের দেশে পাঞ্জাবি, পশতুন, সুন্নি ও শিয়াদের মতো নানা ভেদাভেদের কারণে ভারতীয় তরুণদের মতো এমন সুসংগঠিত ঐক্য গড়ে তোলা কঠিন। তা ছাড়া পাকিস্তানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব হওয়া এবং জেনারেল জিয়াউল হকের শাসনামলে ছাত্র ইউনিয়ন নিষিদ্ধ হওয়ার ঐতিহাসিক প্রভাব আজও তরুণ সমাজকে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে বলে মত দেন অনেকে।
সব বাধা ও সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের জেন-জি আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিলাল হাসান দুই দেশের এই আত্মিক সম্পর্ককে তুলে ধরে বলেন, ‘দিনশেষে আমরা একে অপরকে গভীরভাবে বুঝি। কারণ, আমরা তো একই বিচ্ছেদের (দেশভাগ) সন্তান।
এদিকে শ্রীলঙ্কা, নেপালের তরুণ সমাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় জেন-জিদের এই সাহসিকতার প্রকাশ্যে প্রশংসা করছে। শ্রীলঙ্কার জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট অবান্থা আরটিগালা তার এক কার্টুনে তুলে ধরেছেন—কীভাবে ভারত সরকার ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা হিসেবে আখ্যা পাওয়া আন্দোলনকারীদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। নেপালের কাঠমান্ডুর কনটেন্ট ক্রিয়েটর অবিনাশ মিশ্র জানান, ২০২৫ সালে নেপালের তরুণ আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে ভারতের এই লড়াই।
আরটিভি/এআর