সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৩৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে নিজের দেশ হন্ডুরাসে ফিরেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে বিশেষ ক্ষমা ঘোষণা করার পর এই প্রত্যাবর্তন সম্ভব হলো। মাদক পাচারের দায়ে ৪৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হার্নান্দেজকে চার বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
রোববার (২৬ জুলাই) তিনি হন্ডুরাসের মাটিতে পা রাখেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন পরিবারের সদস্য এবং বিপুল সংখ্যক সমর্থক। দীর্ঘদিন পর নিজের দেশে ফিরে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি তার অনুভূতির কথা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি তার কারাজীবনকে অত্যন্ত কঠিন এক অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি লিখেছেন, এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি যেন আর কাউকে হতে না হয়। কারাগারের দিনগুলো তার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময় ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুসারীদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেও ভোলেননি।
গত বছরের ডিসেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমায় মুক্তি দেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, সাবেক এই প্রেসিডেন্টের মামলাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। তার মতে তৎকালীন জো বাইডেন প্রশাসন এই সাজানো মামলার মাধ্যমে তাকে ফাঁসিয়েছিল।
ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ যুক্তরাষ্ট্রে কোনোভাবেই ন্যায়বিচার পাননি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের মামলা থেকে মুক্তি পেলেও হন্ডুরাসে হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ বহাল রয়েছে। আগামী ৩ আগস্ট তাকে এসব অভিযোগে আদালতে হাজির হওয়ার কথা। যদিও জুন মাসে তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত হওয়ায় দেশে ফেরার পর তাকে আটক করা হয়নি।
এদিকে মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, প্রভাবশালী এই সাবেক প্রেসিডেন্টের বিচার সঠিকভাবে সম্পন্ন নাও হতে পারে। তাদের মতে, বিচার প্রক্রিয়া কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। শেষ পর্যন্ত তিনি শাস্তি এড়িয়েও যেতে পারেন।
২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হার্নান্দেজ।
এর আগে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও রাজনৈতিক প্রচারণায় অবৈধ অর্থ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছিল।
আরটিভি/এআর