বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ , ০৪:৩০ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের ইনমাকুলাডা জ্যাকম্যান পরিবারের বসবাস যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী লিংকনে। তাদের পারিবারিক পোষা একটি কুকুরের নাম পোষা ছিল চং। ২০২১ সালে একদিন কুকুরটি বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। বছর ধরে খুঁজেও সেটির পাওয়া যায়নি তাকে, যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছিল সে।
ইনমাকুলাডা জ্যাকম্যান কেওএলএন-টিভিকে বলেন, আমি তখন থেকেই ওকে খুঁজতাম। আমরা গাড়ি চালিয়ে আমাদের পুরোনো এলাকায় যেতাম, দেখার চেষ্টা করতাম, কেউ ওকে হাঁটাহাঁটি করাচ্ছে কি না বা ও কোথাও দৌড়াদৌড়ি করছে কি না।
এভাবে খোঁজাখুঁজি করতে করতে পাঁচ বছর কেটে যায়। অবশেষে সেই খোঁজাখুঁজির অবসান হয়েছে। জ্যাকম্যানের এক বন্ধু ইনডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের হেনড্রিক্স কাউন্টি অ্যানিমেল শেল্টারের একটি ফেসবুক পেজের পোস্ট তাকে পাঠান।
ওই পোস্ট অনুযায়ী, ইনডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের পিটসবোরোর ‘লাভস ট্রাকস্টপ’–এর বাইরে চংকে ইতস্তত ঘোরাফেরা করতে দেখে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
জায়গাটি জ্যাকম্যানদের বাড়ি থেকে প্রায় ১ হাজার ৩৩ কিলোমিটার (প্রায় ৬৪২ মাইল) দূরে। চং কীভাবে এত দূরে পৌঁছাল, জ্যাকম্যানের মাথাও এ প্রশ্ন এসেছিল।
তবে এত সব চিন্তা বাদ দিয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ওই প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু সেখানে নতুন জটিলতা তৈরি হয়। চং পালিয়ে যাওয়ার পর লিংকনের অন্য কেউ প্রাণীটির গায়ে নতুন একটি মাইক্রোচিপ বসিয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জ্যাকম্যান লেখেন, অন্য কারও নামে চিপ করা থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রকে নিজস্ব নিয়ম ও প্রটোকল মেনে চলতে হয়েছিল। চিপের ফাইলে থাকা নম্বরগুলোয় তিন দিন ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তিন দিনের বাধ্যতামূলক অপেক্ষার সময় পার হওয়ার পর চংকে নতুন করে দত্তকের জন্য প্রস্তুত করা হয়। এ খবর শুনে ইনডিয়ানায় রওনা দেন জ্যাকম্যান। সঙ্গে নিয়ে যান চংয়ের ভাই কুকুর ‘চিচ’-কে। সেখানে পৌঁছানোর পর এক অসাধারণ মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।
প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র থেকে এক পোস্টে বলা হয়, চং শুধু তার মালিককেই নয়, নিজের ভাইকেও চিনতে পেরেছে। এখন পুরো একটি পরিবার ভালোবাসায় ভরা হাত বাড়িয়ে তার ফেরার অপেক্ষা করছে।
আরটিভি/এমএম