বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫৩ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং এর জেরে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর করাচিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দেশটির শত শত রূপান্তরকামী ও তাদের সমর্থক। অনগ্রসর ও চরম আর্থিক ঝুঁকিতে থাকা এই জনগোষ্ঠীর ওপর মূল্যস্ফীতি মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (২৯ জুলাই) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী আইনি সুরক্ষা পেলেও সামাজিক ও পারিবারিক বৈষম্য এবং অবহেলা আজও কাটেনি। এমন সামাজিক বঞ্চনার কারণে তারা প্রায়ই চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েন এবং জীবনধারণের জন্য অনেকেই ভিক্ষাবৃত্তির মতো পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংকটে পাকিস্তান অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশের ভূমিকা পালন করছে। তবে টানা কয়েক মাসের যুদ্ধ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধার কারণে পাকিস্তানে সার্বিক মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করেছে; যা দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে আরও গভীর সঙ্কটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
করাচি শহরে বিক্ষোভকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। এসব প্ল্যাকার্ডে ‘জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, থালা আমাদের খালি’সহ নানা দাবি ও স্লোগান লেখা দেখা যায়। অবিলম্বে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি থেকে মুক্তি এবং নিজেদের জন্য নিরাপদ কর্মসংস্থানের দাবি জানান তারা।
আইএমএফর কাছ থেকে পাওয়া পাকিস্তানের বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তার দিকে ইঙ্গিত করে এক প্রতিবাদকারীর প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমরা রাজপথে ভিক্ষা করি, আর তোমরা ভিক্ষা করো আইএমএফের কাছে।’
বিক্ষোভের আয়োজকরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বাসা ভাড়া, জ্বালানি এবং দৈনন্দিন খাবার খরচে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। ফলে স্বল্প বাজেটে তাদের সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তারা সরকারের কাছে অনগ্রসর এই জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।
পাকিস্তানের পরিসংখ্যান সংস্থা জানিয়েছে, গত জুন মাসে ভোক্তা মূল্যসূচক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া রূপান্তরকামী মানবাধিকারকর্মী শাহজাদী রাই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খাজা সিরা সম্প্রদায়ের অনেকেই কাজ জোগাড় করতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন, যা দ্রব্যবমূল্য বৃদ্ধির এই ধাক্কাকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে যেখানে সাধারণ মানুষের জন্যই টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন, সেখানে রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের জন্য পরিস্থিতি সত্যিই অতিমাত্রায় ভয়ানক।
আরটিভি/এমএম