বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ , ০৭:২৫ পিএম
দীর্ঘদিন ধরে চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ইউক্রেনের জীব বৈচিত্র্যের ওপর। ঘাস, লতা-পাতা ও খড়কুটোর পরিবর্তে যুদ্ধে ব্যবহৃত অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল দিয়ে বাসা বাঁধছে পাখিরা, ফলে স্পষ্ট হচ্ছে যুদ্ধের ভয়াবহতা।
বার্তা সংস্থা রয়য়ার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
নগর পুড়লে দেবালয়ও বাদ পড়ে না। তেমনি যুদ্ধ হলে সামরিক স্থাপনা ও মানুষেরই মতোই ক্ষতিগ্রস্ত হয় পরিবেশ। হুমকিতে মুখে পড়ে প্রাণ-প্রকৃতি।
দীর্ঘ ৪ বছর ধরে চলা যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ ব্যাপক ক্ষতির মুখে ইউক্রেন, সেইসাথে হুমকিতে জীব-বৈচিত্র্য। সম্প্রতি যার প্রমাণ মিলেছে খোদ ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে। শহরটির আনাচে কানাচে খড়কুটোর পরিবর্তে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল দিয়ে বাসা বেধেছে পাখিরা।
মূলত রাশিয়ার ড্রোন হামলা ঠেকাতে এই অপটিক্যাল ফাইবার কেবল ব্যবহার করে ইউক্রেনের সেনারা। প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অতি পাতলা অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল। ইউক্রেনে যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনের কাছে দেখা গেছে এমন অনেক পাখির বাসা। ওই সব এলাকা অসংখ্য অপটিক ফাইবার দিয়ে ছেয়ে রয়েছে। বর্তমানে এসব ক্যাবলই পাখিদের বাসা তৈরির নতুন উপকরণে পরিণত হয়েছে।
২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফাইবার-অপটিক ক্যাবলগুলো ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রসংলগ্ন অঞ্চলের গাছপালা, খোলা মাঠ ও শহরের ভবনের ছাদে জড়িয়ে-ছড়িয়ে রয়েছে, যা সূর্যের আলোয় বিশাল মাকড়সার জালের আকৃতি ধারণ করে।
ঘাস, লতা-পাতার পরিবর্তে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল দিয়ে তৈরি এই বাসা মজবুত হলেও তা পাখিদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা জীববিজ্ঞানীদের।
ইয়ানা হ্রিনকো বলেন, প্রথম বাসাটিতে মূলত শুকনো ঘাস ও ফাইবার-অপটিক ক্যাবল ব্যবহার করা হয়েছে। উপাদানগুলো দিয়ে খুব শক্তভাবে পেঁচিয়ে বাসাটি তৈরি করা হয়েছে।
ইতিহাসের অংশ হিসেবে একটি পাখির বাসা ইউক্রেনের যুদ্ধ জাদুঘর এবং গবেষণার জন্য আরেকটি নেদারল্যান্ডেসে পাঠানো হবে বলে জানান ইউক্রেনের এই গবেষক। গবেষণা শেষে সেটি আবার ইউক্রেনে ফিরিয়ে আনা হবে।
নেদারল্যান্ডসের লাইডেন শহরের ৩৩ বছর বয়সী জীববিজ্ঞানী আউকে-ফ্লোরিয়ান হিমস্ট্রা বলেন, ইউক্রেনে পাখির প্রজাতিগত বৈচিত্র্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তাই সেখানে অনেক ধরনের পাখিই এমন বাসা তৈরি করে থাকে। কৃত্রিম উপকরণ দিয়ে তৈরি পাখির বাসাগুলো কোন প্রজাতির পাখি তৈরি করেছে, তা নির্ধারণে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাসার ভেতরে রয়ে যাওয়া ডিএনএ পরীক্ষা করে আমরা শনাক্ত করার চেষ্টা করবো আসলে কোন প্রজাতির পাখি এটি তৈরি করেছে। আমি জীবনে বহু পাখির বাসা দেখেছি, কিন্তু সত্যি বলতে এমন অবিশ্বাস্য বাসা আগে কখনো দেখিনি।
বিশ্লেষকদের দাবি, পাখিদের বাসা তৈরির এই উপাদানের পরিবর্তন সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। এটি নীরবে বুঝিয়ে দিচ্ছে যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রকৃতির জন্য কতটা ভয়াবহ বিপজ্জনক হতে পারে। পাখিদের এই বাসাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ইউক্রেনের পরিবেশের ওপর যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব কতটা- তা আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে বলেও মনে করছেন গবেষকরা।
আরটিভি/টিআর