images

আন্তর্জাতিক / অস্ট্রেলিয়া

বার্ড ফ্লুর হুমকিতে অস্ট্রেলিয়ার ‘লিটল পেঙ্গুইন’, মারা যেতে পারে ৪০ শতাংশ

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬ , ০৫:৪৮ পিএম

অস্ট্রেলিয়ায় বার্ড ফ্লুর এইচ৫ (H5) ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় দেশটি ঘিরে থাকা বিশ্বখ্যাত ‘লিটল পেঙ্গুইন’ উপনিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মেলবোর্নের বিখ্যাত সেন্ট কিল্ডা সৈকতে এই প্রাদুর্ভাব পৌঁছালে সেখানকার মোট পেঙ্গুইনের ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মারা যেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ায় বন্যপ্রাণীর দেহে বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুর ঘটনায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পরপরই এমন সতর্কতা জারি করা হলো।

মেলবোর্নের সেন্ট কিল্ডা উপকূলে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি ‘লিটল পেঙ্গুইন’ বসবাস করে। বিশ্বের সবচেয়ে ছোট প্রজাতির এই পেঙ্গুইনগুলোর গড়ে উচ্চতা মাত্র ৩০ সেন্টিমিটার। সমুদ্র থেকে তীরে পেঙ্গুইনগুলোর ফিরে আসার দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক সেখানে ভিড় জমান।

সেন্ট কিল্ডার সেবামূলক সংস্থা ‘আর্থকেয়ার সেন্ট কিল্ডা’র সভাপতি লানা অস্টিন জানান, ভাইরাসটি পেঙ্গুইন প্রজাতির ওপর ঠিক কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিশ্চিত নয়। তবে সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী অন্তত এক-তৃতীয়াংশ পেঙ্গুইন মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন
11

অস্ট্রেলিয়ায় কি ফিরছে সেই ভয়ংকর ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানল

অস্ট্রেলিয়ার কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর সংক্রমণ ধরা পড়ার পর এখন পর্যন্ত বন্য সামুদ্রিক পাখির শরীরে ৭৮টি এইচ৫ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার বাউডিন রকস দ্বীপে প্রথমবার বার্ড ফ্লুতে বন্য সামুদ্রিক পাখির গণমৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। আকাশপথে পরিদর্শনের সময় সেখানে ৫০টির বেশি মৃত ও অসুস্থ পাখি পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা গ্রেম কুক বলেন, ‘আগে যেখানে বিচ্ছিন্ন কিছু সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যেত, এখন রোগটি বেশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।’ অন্যদিকে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পরিবেশমন্ত্রী মারে ওয়াট।

উল্লেখ্য, ২০২১ সাল থেকে ইউরোপ, আমেরিকা ও অ্যান্টার্কটিকায় তাণ্ডব চালানোর পর এবার অস্ট্রেলিয়াতেও হানা দিল ঘাতক এইচ৫ বার্ড ফ্লু। বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসের কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ১৪ কোটি পোলট্রি পাখির মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, মানুষের দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ বিরল হলেও অসুস্থ পাখি বা বিষ্ঠার সংস্পর্শে এলে ঝুঁকি তৈরি হয়। সাধারণ জনগণকে আক্রান্ত বা মৃত পাখির কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে জরুরি প্রাণীরোগ হটলাইনে যোগাযোগের তাগিদ দিয়েছে ভিক্টোরিয়ার স্থানীয় প্রশাসন।

আরটিভি/এআর