images

মধ্যপ্রাচ্য / যুক্তরাষ্ট্র

বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিতে যাচ্ছে ইরান, ভয়ংকর হুমকি দিলেন ট্রাম্প

বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ০১:১০ পিএম

অর্থনৈতিক সংকটের জেরে টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা সহিংস বিক্ষোভ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে ইরান সরকার। সরকার পতনের এ আন্দোলনে সরাসরি মদদ ছিল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের। বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে ইরান সরকারকে। নিরাপত্তা বাহিনী ও এলিট ফোর্স আইআরজিসির গুলিতে নিহত হয়েছেন দুই হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী। সেইসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে। 

বিক্ষোভ চলাকালে ইরানের বিভিন্ন সরকারি ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এমনকি ইরানের জাতীয় পতাকাও ছিঁড়ে ফেলতে দেখা যায় বিক্ষোভে। সরকার পতনের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুও চাওয়া হয় বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে। এ অবস্থায় বিক্ষোভরত জনতাকে ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিক্ষোভে যারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন, তাদেরকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার পর এবার সে পথেই এগোচ্ছে ইরান। এরই মধ্যে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে যাওয়া এক বিক্ষোভকারীর নাম সামনে এসেছে পশ্চিমা গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাতে। ২৬ বছর বয়সী এই বিক্ষোভকারীর নাম এরফান সোলতানি। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তাকে ফাঁসিতে ঝোলানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে তেহরান। এই ফাঁসি কার্যকর হলে বর্তমান আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বিক্ষোভকারীর প্রথম ফাঁসির ঘটনা হবে এটি।

আরও পড়ুন
russia

ইরানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে রাশিয়ার কড়া সতর্কবার্তা

এদিকে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করা হলে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিবিএস ইভনিং নিউজের উপস্থাপক টনি ডোকুপিল ট্রাম্পের কাছে ইরানে বুধবার (আজ) থেকে শুরু হতে যাওয়া ফাঁসি কার্যকর হওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ফাঁসির বিষয়ে শুনিনি। যদি তারা তাদের ফাঁসি দেয়, তবে আপনারা এমন কিছু দেখবেন, আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

‘খুব কঠোর ব্যবস্থা’ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক হামলা এবং ২০১৯ সালে ইসলামিক স্টেটের তৎকালীন নেতা আবু বকর আল-বাগদাদিকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

শুধু তাই নয়, বিক্ষোভকারীদেরকে উসকানি দিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেন, ‘ইরানের দেশপ্রেমিকেরা, আপনারা বিক্ষোভ চালিয়ে যান— আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর দখল নিন! খুনি ও অত্যাচারীদের নাম মনে রাখুন। তাদের এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে। বিক্ষোভকারীদের ওপর এই অবিবেচনাপ্রসূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছি। সাহায্য আসছে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ধরনের হুমকিকে সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছে তেহরান। জাতিসংঘে ইরানের মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ওয়াশিংটনের এই ‘চেনা কৌশল’ আবারও ব্যর্থ হবে। ইরান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই কল্পনা ও নীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে সরকার পরিবর্তন।

আরটিভি/এসএইচএম