images

মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্রকে উসকাচ্ছে ইসরায়েল, যুদ্ধে ইরানের সক্ষমতা নিয়ে ভয়ংকর তথ্য

সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৩:৫৮ পিএম

পারমাণবিক চুক্তি ইস্যুকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোয় ভয়ংকর এক যুদ্ধের আশঙ্কা দানা বাঁধছে। থমথমে এই পরিস্থিতিতে মধ্যে পেছন থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে উসকানি দিয়ে চলেছে ইসরায়েল। তবে, সম্ভাব্য যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে ব্যাপক পরিস্থিতি নিয়ে রেখেছে ইরানও। আর যুদ্ধ সত্যিই বেঁধে গেলে ইরানের যে যুক্তরাষ্ট্রকে নাস্তানাবুদ করার যথেষ্ট সক্ষমতা আছে, তা প্রকাশ পেয়েছে খোদ মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যমে। 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও ওয়াশিংটন পোস্টের পৃথক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।    

টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ইরান পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি নিরাপত্তা বৈঠক করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৈঠকে দেশটির শীর্ষ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সফর শেষে দেশে ফেরা ইসরাইলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ওয়াশিংটন সফরে তিনি ইরান ইস্যুতে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠকে মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়াও উপস্থিত ছিলেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সফর গোপন রাখতে ইয়াল জামির সামরিক বিমানের পরিবর্তে ব্যক্তিগত বিমানে যাত্রা করেন। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাতে তিনি ওয়াশিংটনকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ইসরায়েলের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে, এই পর্যায়ে এসে ইরানে হামলা থেকে বিরত থাকলে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে তেহরান।

আরও পড়ুন
Iran999

হঠাৎ ইউরোপের রাষ্ট্রদূতদের তলব, কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ইরান

গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) পেন্টাগনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ও ইয়াল জামির অংশ নেন। তবে, ওই বৈঠকের আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানকে হুমকি দেয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের নৌবহর জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে এটি ওয়াশিংটনের কৌশল হিসেবে দেখা হলেও ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তাহলে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে পরিণত হতে পারে।

এ অবস্থায় ইয়াল জামিরের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহ থেকে দুই মাসের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। 

এদিকে যুদ্ধ শুরু হলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানার জন্য ইরানের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে বলে জানান হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে। মার্কিন মিত্রদের নিরাপত্তা বিষয়ক মূল্যায়ন নথির বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরান এখনো কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্বার্থে আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে। এসব সামরিক স্বার্থের মধ্যে রয়েছে ১০টিরও বেশি ঘাঁটি ও কয়েক দশ হাজার মার্কিন সেনা।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এক মিত্রের প্রস্তুতকৃত মূল্যায়ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান গোলাবারুদ, উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বজায় রেখেছে। এসব সক্ষমতা এই অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুর জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই সক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ট্রাম্প এর আগে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বললেও এখন এই অবস্থান পরিবর্তন করে তেহরানকে পারমাণু বিষয়ক আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন, যা ২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু চুক্তি জেসিপিওএ থেকে সরে যাওয়ার মার্কিন সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এক ইরানি কূটনীতিক বলেছেন, তেহরান সম্মানজনকভাবে সম্পৃক্ত হতে প্রস্তুত, কিন্তু চাপ ও সামরিক হুমকির মধ্যে আলোচনায় বসবে না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ১২ দিনের হামলায় দখলদার ইসরায়েলের পাশে ছিল, যার জবাবে ইরান কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের দেখিয়েছে যে, পারস্য উপসাগরে প্রাণঘাতী হামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের রয়েছে এবং নতুন কোনো সংঘাত হলে এসব হামলা সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত থাকবে না।

এরই মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি আরব দেশ ঘোষণা করেছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।

আরটিভি/এসএইচএম