রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬ , ০৮:৩৬ এএম
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় মারা গেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এর আগে, বহুবার তার মৃত্যুর খবর ছড়ানো হলেও এবারের সংবাদ অনেকটাই নিশ্চিত।
রোববার (১ মার্চ) খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি ও তাসনিম নিউজ। খবর বিবিসির।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল গভীর রাতেই এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনি মারা গেছেন এবং তার মরদেহ পাওয়া গেছে।
এর আগে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খামেনেয়ির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালের দিকে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে যখন হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র, সেই হামলাতেই প্রাণ হারান তিনি। প্রাসাদের কমাউন্ড থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন ইরানি উদ্ধারকারীরা।
স্যাটেলাইটে প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা যায়, খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সেটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
সকালের প্রথম দফা হামলাতেই খামেনি মারা গেলেও সারাদিন ধরে তার মৃত্যুর তথ্য অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শত্রুরা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে সবাইকে জাগ্রত থাকতে হবে।
এদিকে খামেনি ছাড়াও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাই নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনির মৃত্যুতে ৪০ দিনের গণশোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে ইরানে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি নিউজ চ্যানেল আইআরআইএনএন খামেনির ছবি দেখিয়েছে, যার পটভূমিতে কুরআন তেলাওয়াত করা হচ্ছে, আর যার উপরে বাম কোণে একটি কালো ব্যানার দেখানো হচ্ছে।
সেখানে উপস্থাপক পূর্বে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত করে একটি বিবৃতি পড়েন, যেখানে তার মৃত্যুর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, খামেনির শাহাদাত হবে ‘অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি বিদ্রোহের’ সূচনা।
আরটিভি/এসএইচএম