শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬ , ০৯:২০ পিএম
২২ দিনে গড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত। প্রথম আঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার পরিবারসহ হত্যার পরও দেশটির ইসলামী শাসনতন্ত্রের অবসান ঘটাতে না পেরে একের পর এক নেতা ও কমান্ডারকে হত্যা করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
তবে, শক্ত জবাব দিয়ে চলেছে তেহরানও। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে ভয়ংকর সব হামলা চালিয়ে শত্রুপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে দেশটি।
এ অবস্থায় ইরানে হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দখলদার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।
শনিবার (২১ মার্চ) সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি বলেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইরান সরকারের অবকাঠামোর ওপর যে হামলা চালাচ্ছে, এ সপ্তাহে, এটি বেশ বাড়বে।
এছাড়া যতদিন পর্যন্ত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা গালফ অঞ্চলে নিশ্চিত না হবে, ততদিন হামলা অব্যাহত থাকবে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী শক্তিশালী। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বাহিনীও শক্তিশালী। যুদ্ধের সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।
এদিকে, ইরানে আরও ভয়ংকর আঘাত হানার পরিকল্পনা আঁটছে যুক্তরাষ্ট্রও; ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থল হামলা চালানোর। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছে ইতোমধ্যে। এছাড়া, গত কয়েকদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার মেরিন সেনাকে নিয়ে যাওয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যারা এক সপ্তাহের মধ্যেই অঞ্চলটিতে পৌঁছে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা ইরানে স্থল হামলা চালানোর প্রস্তুতির জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পনা দিতে অনুরোধ করেছেন।
তবে, ইরানে সেনা পাঠানো হবে কি না সে ব্যাপারে আরও গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ পরিস্থিতি কোন দিকে গেলে তিনি স্থল হামলার নির্দেশ দেবেন, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।
গত মঙ্গলবার অবশ্য ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানে কোনো স্থল সেনা পাঠাবেন না। তবে সঙ্গে সঙ্গে এক সাংবাদিককে আবার বলেন, যদি আমি সেনা পাঠাইও, তাহলে আপনাদের (এখন) বলব না।
স্থল হামলার প্রস্তুতির ব্যাপারে সিবিএস নিউজ হোয়াইট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট এক লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, এ ধরনের সামরিক পরিকল্পনা করা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজ। যেন সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়কের কাছে একাধিক ‘অপশন’ থাকে। কিন্তু পরিকল্পনা করার মানে এই না যে ইরানে স্থল হামলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
এ পরিকল্পনা এতটাই বিস্তারিতভাবে করা হয়েছে যে স্থল হামলা হলে যদি ইরানের সেনা ও প্যারামিলিটারির সদস্যদের আটক করা হয়, তাদের কীভাবে কী করা হবে সে ব্যাপারেও পরিকল্পনা করা হয়েছে। এমনকি তাদের কোথায় পাঠানো হবে, সেটিও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আরটিভি/এসএইচএম