images

মধ্যপ্রাচ্য / যুক্তরাষ্ট্র

নতুন করে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের, টার্গেট ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:৪২ পিএম

নিজেদের শর্ত মোতাবেক শান্তি চুক্তিতে রাজি করানোর জন্য হরমুজ প্রাণালীতে নৌ-অবরোধের পাশাপাশি ইরানকে একের পর এক চাপ দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে আবারও যুদ্ধ শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। আর এবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মূল টার্গেট থাকবে ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। 

তিনি বলেছেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে মার্কিন বাহিনী যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার জন্য প্রস্তুত আছে। ইরানের এখন আর কোনও নৌবাহিনী নেই। আর এ কারণেই বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে মার্কিন নৌবাহিনী।

ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পিট হেগসেথ বলেন, যতদিন প্রয়োজন, ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ ততদিন জারি রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। 

তিনি আরও বলেছেন, যুদ্ধের শুরুতে বিমান হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। সেই সময় তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে তিনি সেরে উঠছেন।

তেহরানকে চুক্তি স্বাক্ষরে চাপ দেওয়ার কৌশল হিসেবে ইরানে প্রবেশকারী কিংবা সেখান থেকে ছেড়ে আসা সব ধরনের জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

পিট হেগসেথ বলেন, ইরান, তোমরা একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ ও সোনালি সেতুবন্ধন বেছে নিতে পারো এবং আমরা আশা করি তোমরা ইরানের জনগণের স্বার্থে সেটিই করবে। 

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, কিন্তু ইরান যদি ভুল পথ বেছে নেয়, তাহলে তাদের অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত মার্কিন বোমা হামলার মুখোমুখি হবে।

এর আগে, বুধবার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তেহরান যদি অবাধ্যতা অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি করা হবে।

ইরানের ক্ষমতাসীন নেতাদের উদ্দেশ্যে হেগসেথ বলেন, এটি কোনও সমান শক্তির লড়াই নয়। আপনারা কোন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরাচ্ছেন এবং কোথায় সরাচ্ছেন, তা আমাদের জানা আছে।

আরও পড়ুন
3

মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, মার্কিন বাহিনী যেকোনও মুহূর্তে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ইরানের পতাকাবাহী যেকোনও জাহাজ অথবা ইরানকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে—এমন যেকোনও জাহাজকে ধাওয়া করবে।

তিনি আরও অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকারী সব জাহাজকে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি সতর্ক করা হবে যে, যদি আপনারা এই অবরোধ না মানেন, তাহলে আমরা শক্তি প্রয়োগ করব। তিনি বলেন,  ইরানের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা এবং আন্তর্জাতিক জলসীমা—উভয় ক্ষেত্রেই এই অবরোধ কার্যকর করা হবে।

কেইন বলেন, এখন পর্যন্ত মোট ১৩টি জাহাজ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা না করে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও জাহাজে জোরপূর্বক তল্লাশি চালানো হয়নি বলেও জানান তিনি।

আরটিভি/এসএইচএম