সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ , ০৯:৫১ এএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের টানা ৩৮ দিনের সংঘাত শেষে এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি চললেও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে এখনও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক হুমকি-ধমকি ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মুখে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে তেহরান। ইরানি নৌবাহিনীর এ অবরোধের মুখে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথটিতে আটকা পড়ে রয়েছে আট শতাধিক জাহাজ, যেগুলোর বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্র দেশগুলোর স্বার্থসংশ্লিষ্ট।
এবার এই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে উদ্ধার করার লক্ষ্য নিয়ে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের নতুন একটি প্রকল্প ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার (৪ মে) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল অর্থাৎ বাংলাদেশ স্থানীয় সময় সোমবার রাত থেকে হরমুজে এই ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু করতে যাচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী। আর তার এই প্রকল্পে কোনও ধরনের বাধা এলে মার্কিন বাহিনী তাদের পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ট্রাম্প।
রোববার (৩ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় এ ঘোষণা দেন তিনি।
আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ। বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেল-গ্যাস ও জ্বালানি পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিহবন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। ফলে প্রণালি, আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে যায় শত শত জাহাজ।
রোববারের পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’-এর মূল উদ্দেশ্য হবে হরমুজ প্রণালি ও তার আশপাশে আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে প্রণালি পার হতে সহায়তা করা; অর্থাৎ হরমুজ পেরোতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে প্রহরা দেবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।
ট্রুথ সোশ্যালের ওই পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেন, বিশ্বের অনেক দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজে আটকা পড়েছে। এসব দেশের অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয় এবং তারা আমাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যে আমাদের নৌবাহিনী যেন আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে প্রণালি থেকে বের হতে সহযোগিতা করে।
এরপর তিনি লিখেন, আমরা তাদের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যেন নিশ্চিন্তে তাদের গন্তব্য রওনা হতে পারে— তা নিশ্চিত করতে এবং সেসব জাহাজের নিরপেক্ষ-নিরপরাধ ক্রুদের মুক্ত করতে হরমুজ প্রণালিতে শিগগিরই প্রজেক্ট ফ্রিডম প্রকল্প শুরু হচ্ছে।
পোস্টে হরমুজের নতুন এই প্রকল্পকে ‘মানবিক সহায়তা প্রচেষ্টা’ উল্লেখ করে ট্রাম্প লিখেছেন, দিনের পর দিন আটকে থাকার কারণে অনেক জাহাজে ক্রুদের খাদ্য ও জরুরি সরবরাহের সংকট দেখা দিয়েছে। ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ কার্যকর হলে এই প্রকল্প থেকে সবপক্ষ লাভবান হবে। আমি আমার সব প্রতিনিধিকে নির্দেশ দিয়েছি, তারা যেন বিভিন্ন দেশকে জানায় যে তাদের জাহাজ এবং ক্রুদের নিরাপদে হরমুজ থেকে বের করতে আমরা আমাদের সেরা প্রচেষ্টা চালাব।
এদিকে যদি নতুন এই প্রকল্প কার্যকরের পথে কোনো প্রকার ‘হস্তক্ষেপ’ ঘটে— তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণশক্তি দিয়ে সাড়া দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে বর্তমানে ৮৫০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে আছে। এই জাহাজগুলো কীভাবে মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। তবে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, এই পরিকল্পনায় আপাতত মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ দিয়ে পাহারার (এসকর্ট) কোনো ব্যবস্থা নেই। মূলত জাহাজ চলাচলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই ট্রাফিক পরিচালনা করা হবে।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোর সচল করতে যুক্তরাষ্ট্রের একশোর বেশি যুদ্ধবিমান, চালকবিহীন ড্রোন ও ১৫ হাজার সেনাসদস্য সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যালের বার্তায় ট্রাম্প বলেছেন, আমি আমার প্রতিনিধিদের জানিয়ে দিয়েছি, আমরা আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের হরমুজ থেকে নিরাপদে বের করে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। তারা সবাই বলেছেন, এলাকাটি নৌচলাচল এবং অন্যান্য সবকিছুর জন্য নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত তারা ফিরবেন না।
আরটিভি/এসএইচএম