শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ , ১০:০৪ পিএম
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের দুই সপ্তাহ পার হয়েছে। শত্রুপক্ষের যৌথ আগ্রাসনের জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।
এরই মধ্যে ইরানের আগ্রাসী পদক্ষেপের মুখে একেবারে দুর্বল হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পূর্ব এশিয়ার বন্ধু দেশ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে নিজেদের টার্মিনাল হাই-অল্টিচ্যুড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থা সরিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে স্থানান্তর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে একরকম প্রতিরোধ ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ গ্রহণের খবর প্রকাশ হতেই জাপান সাগরে পর পর ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে রাজধানী পিয়ংইয়ং-এর কাছাকাছি এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জাপানের কোস্টগার্ড বাহিনী এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী। খবর রয়টার্সের।
উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপন বিরল কোনো ঘটনা নয়। কারণ, গত দুই দশক ধরেই জাপান সাগর, পূর্ব চীন সাগর ও কোরিয়া প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করছে পিয়ংইয়ং। বেপরোয়াভাবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কারণে ২০০৬ জালে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে জাতিসংঘ, কিন্তু পিয়ংইয়ংকে দমানো যায়নি।
উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে নিজেদের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ বছর আগে দেশটিতে থাড মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে, সম্প্রতি ওয়াশিংটন সিউল-কে জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে থাড।
শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার দৈনিক জুংআং এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। জুংআং-কে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিউং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে থাড সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে খুশি নয় সিউল।
জুনআং-এ এই প্রতিবেদন প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই জাপান সাগরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার নির্দেশ দিলেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।
আরটিভি/এসএইচএম