বুধবার, ০৭ মে ২০২৫ , ১১:৫০ এএম
পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও আজাদ কাশ্মীরের বেশ কয়েক জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ভারত। এতে দুই শিশুসহ অন্তত ৮ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৭ মে) ভোরে ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে এই অভিযান পরিচালনা করেছে ভারত। এতে দেশটির বিমান, নৌ এবং স্থলবাহিনী একযোগে অংশ নেয়।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত এই অভিযানে উচ্চ এবং দীর্ঘ পাল্লার হামলা চালাতে সক্ষম বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এই অস্ত্রগুলোর মধ্যে স্কাল্প ক্রুজ মিসাইল, হেমার বোমা এবং লোটারিং মিউনিশন (আত্মঘাতী ড্রোন) উল্লেখযোগ্য।
অস্ত্রগুলোর কোনটার কী কাজ, চলুন জেনে নিই-
স্কাল্প ক্রুজ মিসাইল: এটি একটি দীর্ঘ পাল্লার আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল। যা ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অতিক্রম করতে পারে। এটি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই মিসাইলটি মূলত বাংকার, সামরিক ঘাঁটি ও সুরক্ষিত অবকাঠামো ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়।
হেমার বোমা: এটি একটি স্মার্ট বোমা। যা নির্ভুলভাবে লক্ষ্যে আঘাত হানার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। বিশেষ করে শক্তিশালী অবকাঠামো- যেমন কংক্রিটে নির্মিত বাংকার এবং বহুতল ভবন ধ্বংসে এই বোমা ব্যবহৃত হয়। এটি ৫০ থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
লোটারিং মিউনিশন: এটি নজরদারি, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ এবং চূড়ান্ত আঘাত হানার কাজে ব্যবহৃত হয়। এই ড্রোনগুলো নির্দিষ্ট এলাকায় বাতাসে ঘোরাফেরা করতে পারে এবং লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্তের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অথবা দূরনিয়ন্ত্রিতভাবে হামলা চালিয়ে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে।
এই অস্ত্রের বিশেষত্ব হলো- একবার লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা হলে, এরা সরাসরি নিজেদের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আঘাত হানে। ফলে এগুলোর পুনঃব্যবহার সম্ভব নয়।
এদিকে পাকিস্তানে ভারতের হামলাকে কাপুরুষোচিত উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেছেন, এই হামলার প্রেক্ষিতে ভারতে হামলা করার অধিকার রয়েছে পাকিস্তানের।
বুধবার (৭ মে) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শেহবাজ শরিফ বলেছেন, শত্রুপক্ষ উসকানিমূলক আগ্রাসনের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের পাঁচটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। ভারত যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে, তার জবাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে। পাকিস্তান এই হামলাকে ‘স্পষ্ট যুদ্ধ ঘোষণার কার্যক্রম’ বলে মনে করে।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (৬ মে) মধ্যরাতের পর পাকিস্তানের কোটলি, ভাওয়ালপুর, মুরিদকে, বাগ ও মুজাফ্ফরবাদে ‘কাপুরুষোচিত’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ভারত। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এরইমধ্যে এর বদলা নিতে শুরু করেছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দাবি করেছেন, সীমান্ত আগ্রাসনের জবাবে পাকিস্তান বিমানবাহিনী কমপক্ষে পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
অন্যদিকে, ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুহাম্মদ অসিম মালিককে ফোন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের চালানো হামলার প্রতিশোধ হিসেবে দেশটির পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। যার মধ্যে রয়েছে তিনটি রাফাল এবং রাশিয়ান তৈরি একটি করে এসইউ-৩০ ও মিগ-২৯।
প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ হামলায় ২৬ জন নিহত হন। যাদের অধিকাংশই ছিলেন পর্যটক। হামলার পর দিল্লি সোজাসুজি এর দায় চাপায় ইসলামাবাদের ঘাড়ে। দুই দেশ থেকে নেওয়া হয় বেশ কিছু কূটনৈতিক পদক্ষেপও।
পরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি থামাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেয় ইরান ও রাশিয়া। তবে সবকিছু উপেক্ষা করে জম্মু-কাশ্মীরে হামলার দুই সপ্তাহ পর পাকিস্তানে হামলা চালালো ভারত।
আরটিভি/আইএম