images

ভারত

মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে ভারতে ‘জীবন্ত পুঁতে ফেলা’ নবজাতক কন্যা

শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ০২:৫৪ পিএম

ভারতের উত্তর প্রদেশে মাটিতে জীবন্ত পুঁতে ফেলার পর উদ্ধার হওয়া ২০ দিন বয়সী এক নবজাতক মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে বলে জানিয়েছে কন্যা শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ছাগলকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যাওয়া এক রাখাল মাটির নিচ থেকে মৃদু কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে আকস্মিকভাবে ওই শিশুটির খোঁজ পান।

রাখাল কাছে গিয়ে দেখেন, মাটির ভেতর থেকে সরু একটি হাত বেরিয়ে এসেছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি গ্রামবাসীদের বিষয়টি জানান। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে তারা এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনার জন্য কাদের সন্দেহ করা হচ্ছে, পুলিশ তা বলেনি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ভারতের অনেক এলাকায় কন্যা সন্তানকে ত্যাগ করা বা হত্যাচেষ্টার পেছনে ছেলে সন্তানকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতাকেই দায়ী করা হয়।

জীবন্ত পুঁতে ফেলার এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্যের শাহজাহানপুর জেলায়। সেখানকার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।

মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ড. রাজেশ কুমার জানান, সোমবার সারা শরীরে মাটি লেগে থাকা অবস্থায় নবজাতকটিকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল, কারণ মাটি মুখ ও নাকে ঢুকে পড়েছিল।

রাজেশ বলেন, খুব খারাপ অবস্থা ছিল। হাইপোক্সিয়া বা অক্সিজেনের ঘাটতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। তাকে কীটপতঙ্গ ও কিছু প্রাণীও কামড়েছিল। ২৪ ঘণ্টা পর আমরা সামান্য উন্নতি দেখতে পাই। কিন্তু এরপর থেকে তার অবস্থা খারাপ হচ্ছে। সংক্রমণও ধরা পড়েছে। 

এ চিকিৎসকের ধারণা, নবজাতকটিকে মাটিচাপা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল, কেননা তখনও তার ক্ষতগুলো ছিল তাজা।

একদল চিকিৎসক শিশুটির চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছেন এবং তারা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।

অবস্থা সঙ্কটাপন্ন, তবে আমরা তাকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টাই করছি বলে জানান রাজেশ।

নবজাতকটির বাবা-মাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা এখনও সফল হয়নি বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। শিশুটির ব্যাপারে রাজ্যের শিশু সহযোগিতা কেন্দ্রে জানানো হয়েছে।

শাহজাহানপুরের এ ঘটনা ভারতে প্রথম নয়। ২০১৯ সালেও সময়ের আগে জন্ম নেওয়া এক নবজাতককে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। শিশুটিকে মাটির হাড়ির মধ্যে রেখে জীবন্ত পুঁতে ফেলা হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সে সুস্থ হয়ে ওঠে।

বিশ্বের মধ্যে যেসব দেশে পুরুষ-নারী অনুপাত সবচেয়ে খারাপ, ভারত তার অন্যতম। দেশটিতে দরিদ্র সম্প্রদায়ের নারীরা জীবনভর সামাজিক বৈষম্যের শিকার হন, আর মেয়েদেরকে দেখা হয় আর্থিক বোঝা হিসেবে।

এ বিষয়ে কাজ করা অনেকেই বলছেন, ভারতে ঐতিহ্যগতভাবে ছেলে সন্তান প্রাধান্য পাওয়ায় বছরের পর বছর লাখো কন্যা শিশু গর্ভাবস্থায় বা জন্মের অল্প সময়ের মধ্যেই মারা গেছে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এখন গর্ভপাতের মাধ্যমে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ কন্যা ভ্রূণকে নিশ্চিহ্ন করা হয়। তবে জন্ম নেওয়া কন্যা শিশুকে মেরে ফেলার ঘটনাও কম নয়, বলছেন তারা।

 
আরটিভি/টিআই