images

ভারত

স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করে তুললেন সেলফি, এরপর দিলেন স্ট্যাটাস

সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৫:৪৮ পিএম

প্রথমে স্ত্রীকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেন স্বামী। এরপর মাটিতে পড়ে থাকা স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহের সঙ্গে তোলেন সেলফি। এখানেই থেমে থাকেননি পাষণ্ড স্বামী; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে স্ট্যাটাস হিসেবে আবার আপলোডও করেছেন সেই সেলফি।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কোয়েম্বাটোরে একটি মহিলা হোস্টেলে; রোববার (৩০ নভেম্বর)। খবর এনডিটিভির।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রাজ্যজুড়ে; একইসঙ্গে ক্রমবর্ধমান নারী সহিংসতার বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভেরও জন্ম দিয়েছে এ ঘটনা।

ঘাতক স্বামীর নাম বালামুরুগান (৩২)। স্ত্রী শ্রীপ্রিয়া (২৮) ও তিন সন্তানকে নিয়ে তিরুনেলভেলির নিজ বাড়িতে থাকতেন তিনি।

কয়েক মাস আগে শ্রীপ্রিয়া দাম্পত্য কলহের কারণে বালামুরুগানের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান। এরপর তিনি কোয়েম্বাটোরে গিয়ে একটি মহিলা হোস্টেলে ওঠেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুরে স্ত্রী শ্রীপ্রিয়ার সঙ্গে দেখা করতে ওই হোস্টেলে যান বালামুরুগান। এ সময় তার জামার নিচে একটি কাস্তে লুকানো ছিল।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, দেখা হওয়ার কিছুক্ষণ পরই দুজনের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বালামুরুগান কাস্তে বের করে শ্রীপ্রিয়াকে হোস্টেলের মধ্যেই কুপিয়ে হত্যা করেন।

শ্রীপ্রিয়াকে হত্যার পর তার রক্তাক্ত মরদেহের সঙ্গে একটি সেলফিও তোলেন বালামুরুগান। পরে সেই সেলফি তিনি আবার নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে আপলোড করেন। বালামুরুগানের দাবি, শ্রীপ্রিয়া তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

এ ঘটনার সময় হোস্টেলের অন্য নারীরা ভয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। বালামুরুগান ঘটনাস্থলেই অপেক্ষা করেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে গ্রেপ্তার করে। হত্যায় ব্যবহৃত কাস্তেটি জব্দ করেছে পুলিশ।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বালামুরুগান সন্দেহ করতেন যে তার স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ড তামিলনাড়ুতে নারীর সুরক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। বিরোধী দলগুলো ক্ষমতাসীন ডিএমকে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও নারীদের সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে সরকারের বিরুদ্ধে। যদিও সরকার ও রাজ্য পুলিশ দাবি করেছে যে এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এ ধরনের সব ঘটনায় দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আরটিভি/এসএইচএম