রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৯:২৮ এএম
ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে ২০ শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে জ্যোতিষ পিঠের ধর্মগুরু স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী এবং তার শিষ্য স্বামী মুকুন্দানন্দ গিরির বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় আদালত।
তবে, নিজের বিরুদ্ধে আনা এসব শিশু নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার এবং মিথ্যা বলে দাবি করেছেন অবিমুক্তেশ্বরানন্দ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য স্টেটসম্যান।
স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ বলেন, মামলা রুজু হওয়া সঠিক, কারণ মামলার মাধ্যমেই ‘সত্য’ উদ্ঘাটিত হবে। তার দাবি, তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং তদন্তে সত্য প্রকাশ পাবে। আদালতকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিলম্ব না করে সত্য প্রতিষ্ঠা করা উচিত।
এই ধর্মগুরু আরও দাবি করেন, ‘গো মাতা’ ইস্যুতে সরব থাকার কারণেই তার কণ্ঠ রোধ করতে এই মামলা করা হয়েছে।
প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত জেলা বিচারক বিনোদ কুমার চৌরাসিয়া স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ ও তার শিষ্য স্বামী মুকুন্দানন্দ গিরির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত পুলিশকে ২০ জন শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বিস্তারিত তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি অভিযোগকারী আশুতোষ ব্রহ্মচারী স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ ও তার শিষ্য স্বামী মুকুন্দানন্দ গিরির বিরুদ্ধে বিশেষ রেপ ও পোকোসো আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।
তার অভিযোগ, আশ্রমে নাবালকদের যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি আদালতে দুজন নাবালককে হাজির করেন এবং একটি সিডি প্রমাণ হিসেবে জমা দেন। স্থানীয় ঝুঁসি থানায় মামলা নথিভুক্ত না হওয়ায় তিনি ধারা ১৭৩(৪) অনুযায়ী আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মামলা নেওয়ার অনুরোধের প্রেক্ষিতে এমন এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালত ভুক্তভোগী নাবালকদের বক্তব্য রেকর্ড করার পর রায় সংরক্ষণ করেছে এবং পরে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে।
বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ বিস্তারিত অনুসন্ধান করবে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরটিভি/এসএইচএম