images

ভারত

গ্রেপ্তার হতে পারেন বাংলাদেশ দখলে উসকানি দেওয়া ভারতের সেই ‘খান স্যার’ 

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ০৩:৪৬ পিএম

বাংলাদেশের রংপুর ও চট্টগ্রাম দখলের ব্যাপারে মন্তব্য করে তুমুল উত্তেজনার জন্ম দিয়েছিলেন ভারতের বিহার রাজ্যের শিক্ষক ও ইউটিউবার ফয়সাল খান ওরফে ‘খান স্যার’। সম্প্রতি তার কোচিং সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার নিজেই আইনি ঝামেলায় পড়ে গেছেন তিনি। যে কোনো সময় গ্রেপ্তার করা হতে পারে আলোচিত এই ইউটিউবার ও শিক্ষককে।

শুক্রবার (৫ মে) এনডিটিভিসহ ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য। 

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, খান স্যারের বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহে পাটনায় তার কোচিং সেন্টারে হামলার সময় তার নিরাপত্তারক্ষীরা গুলি চালানোর কারণে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ মে) পুলিশ তার দুই নিরাপত্তারক্ষীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর প্রথম এফআইআর দায়ের করা হয়।

গত মঙ্গলবার রাতে খানের কোচিং সেন্টার, খান গ্লোবাল স্টাডিজ ইনস্টিটিউটে চালানো হয় হামলা। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ১৫-২০ জনের একটি দল ইনস্টিটিউটটিতে ভাঙচুর চালাচ্ছে এবং পাথর ছুঁড়ছে। ভিডিওটিতে দুই নিরাপত্তারক্ষীকে শূন্যে গুলি চালাতেও দেখা যায়। গুলিবর্ষণে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো পরে জব্দ করে পুলিশ।

ঘটনার পরপরই আরেকটি কোচিং সেন্টারের সঙ্গে খান স্যারের দ্বন্দ্বের তথ্য সামনে চলে আসে। ‘খান স্যার’ অভিযোগ করেন, জ্ঞান বিন্দু কোচিং সেন্টারের লোকজন এই গুলিবর্ষণের পেছনে ছিল। তিনি বলেন, ‘তারা ব্যাপক ভাঙচুর করেছে, আমাদের নিরাপত্তারক্ষীকে প্রচণ্ড মারধর করেছে এবং গুলিও চালিয়েছে। তাদের মূল ক্ষোভ হলো, কীভাবে কেউ এত কম খরচে ছাত্রদের পড়িয়েও প্রতি বছর ভালো ফলাফল এনে দিতে পারে?’

তবে, হামলার সময় গুলি চালানো হয়েছে তার এমন মন্তব্য থেকে পরবর্তীতে সরে আসেন তিনি। পরে তিনি বলেন, গুলি আসলেই চালানো হয়েছিল কিনা, তা কেবল পুলিশি তদন্তই নিশ্চিত করতে পারবে। এ ঘটনায় প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং সেন্টারের পরিচালক রোশন আনন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, খান নিজেই এই ঘটনাটি সাজিয়েছিলেন।

পুলিশি তদন্তেও গুলি চালানোর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর জেরে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, খান দাবি করেছিলেন তার সামনে ৭-৮ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল, তা কেবল মিথ্যা ও গুজব ছড়ানোর চেষ্টা। ইতোমধ্যে পুলিশ খান স্যারকে তার কোচিং সেন্টারে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই পরিস্থিতিতে খান স্যার যে কোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন
khan-global

বাংলাদেশ দখলে উসকানিদাতা ভারতের ‘খান স্যার’ এর কোচিং সেন্টারে হামলা

প্রাথমিক তদন্তের প্রেক্ষিতে পুলিশ জানায়, জ্ঞান বিন্দু কোচিংয়ের পরিচালকের নির্দেশে তার কর্মী ও অন্যান্যরা খান স্যারের প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। পরে একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই পরিস্থিতি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যায়।

হামলার দিন রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি গুলি চালানোর একটি ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। সে সময় খান স্যারের কোচিং সেন্টারের কর্মীরা তাকে জোর করে মোবাইল ফোন থেকে ভিডিওটি মুছে ফেলতে বাধ্য করেন। তবে, সেটি কোনোভাবে পরে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

ভাইরাল ভিডিওতে খান স্যারের দুই রক্ষীকে গুলি চালাতে দেখা যায়। ভিডিওটি পুলিশের নজরে পড়তেই সম্পূর্ণ ঘুরে গেছে মামলাটির মোড়। পাটনা পুলিশ গুলি চালানোর অভিযোগে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। দুজনের অস্ত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং তাদের লাইসেন্স যাচাই করা হচ্ছে। আর এখানেই ঘনীভূত হচ্ছে খান স্যারের গ্রেপ্তারের আশঙ্কা।

এদিকে, কোচিং সেন্টারে হামলার ঘটনার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে খান স্যারের অতীত বক্তব্য, যেখানে তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার সরাসরি হুমকি দিয়েছিলেন।

২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বাংলাদেশের রংপুর ও চট্টগ্রাম নিয়ে খান স্যারকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা যদি বাংলাদেশের রংপুর নামের জেলাটির দিকে তাকাই—যদি এই রংপুর দখল করে নেওয়া হয়, তবে পুরো সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। যদি আমরা এই এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করি, তবে পথটি চওড়া এবং সমান হয়ে যাবে। আমাদের যাতায়াতে আর কোনো সমস্যা থাকবে না; আমাদের যে সরু ঘাড় (চিকেনস নেক) ছিল, তা চওড়া হয়ে যাবে।’

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম নিয়ে একই ভিডিওতে তিনি আরও দাবি করেন, আমাদের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে মাত্র ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার পরেই সমুদ্র শুরু হয়ে যায়। আমরা যদি এই সামান্য অংশটুকু দখল করে নিচে নেমে যাই, তবে ত্রিপুরা সরাসরি সমুদ্র পেয়ে যাবে। তাহলে আমরা কেন মেঘালয়কে ‘গ্রেটার মেঘালয়’ এবং ত্রিপুরাকে ‘গ্রেটার ত্রিপুরা’ বানিয়ে দিচ্ছি না? খেলা খতম। ইন্ডিয়ান আর্মির এই ভূখণ্ডের কোথায় কী আছে সে বিষয়ে ব্যাপক অভিজ্ঞতা এবং ধারণা রয়েছে। তারা সহজেই এলাকাটি ঘিরে ফেলতে পারবে। এর ফলে বাংলাদেশের ‘চট্টগ্রাম’ বিভাগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। চট্টগ্রাম বিভাগ যখন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, তখন এই এলাকায় বাংলাদেশের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণও খতম হয়ে যাবে।

আরটিভি/এসএইচএম