বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:১৪ এএম
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভের ঝুঁকিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহর। এ অবস্থায় শহরের কেন্দ্রস্থল এড়িয়ে চলার জন্য নিজের নাগরিকদেরকে পরামর্শ দিয়েছে ফ্রান্স।
গত ২৪ জানুয়ারি এই ভ্রমণ সতর্কতা জারি হলেও এখনও এর প্রাসঙ্গিকতা রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইক।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মিনিয়াপোলিস শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের শহরের কেন্দ্রস্থল এড়িয়ে চলার জন্য অনুরোধ করছে এবং ফরাসি নাগরিকদের সমাবেশ এড়াতে এবং প্রয়োজনে ভ্রমণ সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে, জার্মানিও তার নাগরিকদের জন্য মিনিয়াপোলিস শহর ভ্রমণের ব্যাপারে সতর্ক করে। জারি করা সেই সতর্কতায় জার্মানিও উল্লেখ করে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি প্রয়োগের কারণে জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কিত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে মিনিয়াপোলিসে।
জার্মানির সতর্কতামূলক পরামর্শে বলা হয়, মিনিয়াপলিস এবং অন্যান্য শহরে বিক্ষোভ কখনও কখনও অভিবাসীদেরকে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহিংস সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দেয়। তাই, সহিংসতা ঘটতে পারে এমন জনসমাগম থেকে দূরে থাকতে, স্থানীয় মিডিয়ায় চোখ রাখতে এবং বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিদ্যমান পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয়তাগুলো নোট করতে সতর্ক করা হচ্ছে জনগণকে।
একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে ইউরোপের আরেক দেশ আয়ারল্যান্ড। গত ১৫ জানুয়ারী সবশেষ আপডেট করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আইরিশ নাগরিকদের মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকায় ভ্রমণ করলে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
এদিকে মিনিয়াপোলিসে বক্তব্য দেওয়ার সময় গত ২৭ জানুয়ারি হামলার শিকার হয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রভাবশালী মুসলিম সদস্য ইলহান ওমর। ওইদিন রাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত অভিবাসন নীতি ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কঠোর সমালোচনা করার সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলহান ওমর যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা করছিলেন, তখন এক ব্যক্তি হঠাৎ তার দিকে ছুটে যায় এবং একটি স্বচ্ছ তরল স্প্রে করে। এ ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক জনসভায় ইলহান ওমর ও সোমালি অভিবাসীদের নিয়ে চরম অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন।
হামলার শিকার হওয়ার পরও অদম্য সাহসের পরিচয় দিয়ে মঞ্চ ছাড়েননি সোমালি বংশোদ্ভূত এই কংগ্রেস সদস্য। ঘটনার আকস্মিকতায় সামান্য বিচলিত হলেও তিনি শারীরিকভাবে অক্ষত আছেন এবং দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে পুনরায় বক্তব্য শুরু করেন। উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, আমরা কথা বলা চালিয়ে যাব, আমাকে শুধু দশ মিনিট সময় দিন। উসকানিদাতাদের আমি আমাদের গণতান্ত্রিক মঞ্চ দখল করার কোনো সুযোগ দেব না।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় তিনি নিজেকে একজন ‘সারভাইভার’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এ ধরনের কাপুরুষোচিত আক্রমণ তাকে তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।
আমেরিকার মুসলিম নাগরিক অধিকার সংস্থা সিএআইআর এই ঘটনাকে বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী উসকানির ভয়াবহ ফল হিসেবে আখ্যায়িত করে দ্রুত বিচার দাবি করেছে।
আরটিভি/এসএইচএম