সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ , ১১:০৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) চলমান শাটডাউনের জেরে দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে হোয়াইট হাউস।
সোমবার (২৩ মার্চ) থেকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা লাইনের অসহনীয় চাপ কমাতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) এজেন্টদের মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি সীমান্ত বিষয়ক প্রধান টম হোম্যান। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে পাল্টা পাল্টি হুঁশিয়ারি শুরু হয়েছে।
রবিবার সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে হোম্যান জানান, আইসিই এজেন্টরা মূলত বিমানবন্দরের এক্সিট ডোর পাহারা দেওয়া এবং সাধারণ তদারকির কাজ করবেন। এর ফলে ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) কর্মকর্তারা যাত্রী স্ক্রিনিং ও মূল নিরাপত্তা তল্লাশিতে বেশি সময় দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সোমবার সকালের মধ্যেই নির্ধারণ করা হবে কোন কোন প্রধান বিমানবন্দরে এই মোতায়েন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, শাটডাউনের কারণে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা নিরসনে আইসিই এজেন্টদের ব্যবহার করা জরুরি।
উল্লেখ্য, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ডিএইচএস শাটডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে বেতন না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার ফেডারেল কর্মী। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেতনহীন অবস্থায় কাজ করতে অস্বীকার করে এ পর্যন্ত ৪০০-রও বেশি টিএসএ কর্মকর্তা চাকরি ছেড়েছেন। এই বিশাল শূন্যতা পূরণে অপ্রশিক্ষিত আইসিই এজেন্টদের ব্যবহার করার কঠোর সমালোচনা করেছে আমেরিকান ফেডারেশন অব গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ।
সংগঠনটির সভাপতি এভারেট কেলি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "আইসিই এজেন্টরা বিস্ফোরক, অস্ত্র বা সূক্ষ্ম নিরাপত্তা হুমকি শনাক্ত করার জন্য প্রশিক্ষিত বা সার্টিফাইড নন। টিএসএ কর্মকর্তারা মাসের পর মাস বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে এই কাজ করেন। অপ্রশিক্ষিত লোকজনকে চেকপয়েন্টে বসানো কোনো সমাধান নয়, বরং এটি নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে।"
হাউস ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিসও এই পরিকল্পনাকে আমেরিকানদের হয়রানি ও প্রাণহানির ঝুঁকির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মিনিয়াপোলিসে আইসিইর গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর থেকেই ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসন নীতি পরিবর্তনের দাবিতে ডিএইচএসের অর্থায়ন আটকে রেখেছে। ডেমোক্র্যাটরা টিএসএ-সহ অন্যান্য সংস্থার জন্য আলাদা অর্থায়নের প্রস্তাব দিলেও আইসিই ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনকে (সিবিপি) সেই তালিকা থেকে বাদ রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তারা দাবি করছেন, কার্যকর পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আইসিইকে করদাতাদের অর্থ দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে।
তবে রিপাবলিকান শিবিরে এই অচলাবস্থা কাটানোর নতুন চিন্তা শুরু হয়েছে। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ ও লুইজিয়ানার জন কেনেডি আইসিই এবং সিবিপির অর্থায়ন আলাদা করার ধারণায় ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।
সিনেটর কেনেডি প্রস্তাব করেছেন, আইসিই বাদ দিয়ে বাকি জরুরি সংস্থাগুলো চালু করা হোক, পরবর্তীতে কেবল রিপাবলিকান ভোটে ‘রিকনসিলিয়েশন বিল’-এর মাধ্যমে আইসিইর অর্থায়ন নিশ্চিত করা যাবে।
আরটিভি/এআর