images

যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পক্ষ নেওয়ায় স্পেনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ট্রাম্পের

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬ , ০৩:৪৬ পিএম

ইরানের পক্ষ নেওয়ায় ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশ স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে ন্যাটোর অন্য জোটসঙ্গীদেরকেও দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।  

বুধবার (৮ জুলাই) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

এদিন তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি তার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। 

সম্মেলনে ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটকে ট্রাম্প বলেন, ন্যাটোর মধ্যে ‘ভয়ানক এক অংশীদার’ এই স্পেন। তারা ন্যাটোর জিডিপির ৫% নতুন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রায় রাজি হয়নি। এমনকি ইরান যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি দেশটির সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্ব। স্পেন কোনো কিছুতেই রাজি হয় না এবং আপনার তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখা উচিত নয়।

এ সময় মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, আমি স্পেনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য করতে চাই না, ঠিক আছে? এটা অবিলম্বে করুন, তাদের সঙ্গে কথাও বলবেন না। তারা অযোগ্য। তারা খারাপ লোক। আমি তাদের সঙ্গে কোনও ব্যবসা করতে চাই না।

আরও পড়ুন
iran

মার্কিন হামলার কড়া জবাব, দুই দেশের ৮৫ স্থাপনায় হামলা ইরানের

স্পেনে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে— রোটা নৌঘাঁটি এবং মোরোন বিমান ঘাঁটি। এপ্রিল মাসে একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে সেইসব ন্যাটো মিত্রদের শাস্তি দেওয়ার বিভিন্ন বিকল্পের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, যাদের সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস যে তারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানকে সমর্থন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে জোট থেকে স্পেনকে স্থগিত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

গত মার্চে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি স্পেন। এমনকি মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশসীমাও বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটি। এ ঘটনার জেরেই ট্রাম্প এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকটি শেষ হয়ে গেছে।’

এর আগে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সবশেষ দফার হামলায় ইরানের সুনির্দিষ্টভাবে ৮০টি স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। এতে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে নিশানা করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা হ্রাসের লক্ষ্যে প্রণালির ভেতরে ও আশপাশে অবস্থানরত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট নৌকায়ও হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

ইতোমধ্যে মার্কিন এ হামলার জবাব দিতে শুরু করেছে ইরান। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে মার্কিন বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা। 

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দেশটির নৌ ও বিমান বাহিনী ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সব মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে নিশানা করা হয়েছে এসব হামলায়।

পাল্টাপাল্টি এসব হামলায় আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি; নতুন করে বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা।

আরটিভি/এসএইচএম