images

যুক্তরাষ্ট্র

ভয়ংকর পানামা জঙ্গল পেরিয়ে যেভাবে আমেরিকায় গেছে লাখো মানুষ

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ , ০৩:০২ পিএম

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনালড ট্রাম্প। দেশটিতে বসবাসরত অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে নিয়মিতই চলছে ধরপাকড়। এত কঠোর নীতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে এখনও সক্রিয় বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র। আর এসব চক্রের খপ্পরে পড়ে অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশীই চরম ঝুঁকিতে ফেলেন জীবনকে। অবৈধ উপায়ে স্বপ্নের দেশে পাড়ি দিতে গিয়ে পতিত হন মৃত্যুমুখে। 

উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী একমাত্র স্থলপথ ‘ড্যারিয়েন গ্যাপ’, পদে পদে যেখানে ছড়িয়ে আছে বিপদ। এ পর্যন্ত ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে ভয়ংকর এই পথ পার হতে গিয়ে, সেই সংখ্যাটাও অজানা। এরপরও প্রতি বছর হাজার হাজার অভিবাসী মোটা অঙ্কের ডলার খরচ করে এই পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন উন্নত জীবনের আশায়। 

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণের পর আলোচনায় উঠে আসে বিশ্বের অবৈধ অভিবাসীদের সবচেয়ে বিপজ্জনক রুটগুলোর মধ্যে অন্যতম এই ‘ড্যারিয়েন গ্যাপ’।

ঘন জঙ্গল আর জলাশয়ে ঘেরা এই পথের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ কিলোমিটার। বন্যপ্রাণীর হানা, ভূমিধস আর বন্যা, কাদামাটিতে তলিয়ে যাওয়া কিংবা সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হওয়া— এই পথ পাড়ি দিতে অনেককেই ভোগ করতে হয় এমন সব নরকযন্ত্রণা।

শেষ পর্যন্ত এই বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিতে সক্ষম হন হাতে গোনা কয়েকজন; যাদের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র নয়তো কানাডা। কলম্বিয়াকে পানামার সঙ্গে যুক্ত করা দুই মহাদেশের মধ্যে এই স্থলপথ গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বিপজ্জনক রুটে পরিণত হয়েছে অভিবাসীদের জন্য।

আরও পড়ুন
human-trafficing

যুক্তরাষ্ট্রে মানবপাচারের অভিযোগ, বাংলাদেশির বিচার শুরু

প্যান আমেরিকান হাইওয়ের মধ্যে আলাস্কা থেকে আর্জেন্টিনা পর্যন্ত বিস্তৃত মহাসড়কের ছোট একটি অংশ এই ড্যারিয়েন গ্যাপ। আদতে এটি কোনও সড়ক নয়। যারা এই ড্যারিয়েন গ্যাপ পাড়ি দিতে যায়, তাদের মুখোমুখি হতে হয় খাড়া পর্বত, কর্দমাক্ত জলাভূমি, স্রোতস্বিনী নদী আর বিপজ্জনক বন্যপ্রাণীর। বৃষ্টির দিনে এই পথ হয়ে যায় আরও বিপজ্জনক। বিষাক্ত সাপ, পোকামাকড় আর জাগুয়ারে ভরা এই জঙ্গল। রয়েছে কুমির আর মশার আতঙ্কও।

পথে আরও বড় বিপদ মাদক চোরাচালানকারী সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো, যারা ড্যারিয়েন গ্যাপ নিয়ন্ত্রণ করছে। মাদক চোরাচালানের এই রুটে অভিবাসন প্রত্যাশীরা প্রায়ই ডাকাতি আর নির্যাতনের শিকার হন। কিন্তু, যে অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্র যেতে মরিয়া, তাদের জন্য এই পথ এড়ানো কঠিন। দফায় দফায় সন্ত্রাসী আর মানব পাচারকারীদেরকে দিতে হয় শত শত ডলার। কারণ, মোবাইল ছাড়া একমাত্র এই গাইডরাই ভয়ংকর এই পথ পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে হয়ে ওঠেন একমাত্র ভরসা।  

ভয়ংকর এই ‘ড্যারিয়েন গ্যাপ’-এর আরেক নাম ডাঙ্কি রুট। এই পথে এশিয়ানরা প্রথমে মধ্য আমেরিকার দেশ পানামা, কোস্টা রিকা, এল সালভাদোর আর গুয়াতেমালাতে যায়, যেখানে ভিসা পাওয়া সহজ। এরপর গন্তব্য মেক্সিকো, সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র। ভয়ংকর এই রুট পাড়ি দিতে মানবপাচারকারীদের সহযোগিতা নেয় অনেকেই, দিতে হয় হাজার হাজার ডলার।

কলোম্বিয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিবাসন ব্যবসা থেকে প্রতি বছর গাল্ফ ক্ল্যান একাই ৩ কোটি ডলার আয় করে। দশকের পর দশক ধরে গাল্ফ ক্ল্যান হিসেবে পরিচিত কলোম্বিয়ার সন্ত্রাসীরা এই রুট দিয়ে মাদক পাচার করে।

সাম্প্রতিক সময়ে এই রুট পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অভিবাসন রুটে। প্রতি বছর হাজার হাজার অভিবাসী ঘন এই জঙ্গলের পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে উন্নত জীবনের খোঁজে। কিন্তু যাত্রাপথে অনেককেই দিতে হয় জীবন। ভেনেজুয়েলা, হাইতি, ইকুয়েডর, পাকিস্তান, ভারতের পাশাপাশি বিপজ্জনক এই রুট পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি নেয় বাংলাদেশের অভিবাসন প্রত্যাশীরাও। ৭ থেকে ১৫ দিনের এই যাত্রায় অনেকেই জীবদ্দশায় দেখে ফেলে নরক।

আরটিভি/এসএইচএম