রোববার, ০১ জুন ২০২৫ , ০৩:০১ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও ১৪ দল যে মানবতাবিরোধি অপরাধ করেছে তা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করার সামিল।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে রয়েছে– আওয়ামী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), গণ-আজাদী লীগ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, জাসদ (আম্বিয়া), গণতন্ত্রী পার্টি, ন্যাপ (মোজাফফর), জাতীয় পার্টি (মঞ্জু)।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের দুঃশাসন, ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর। ১৩টি ভলিউমে সাড়ে ৮ হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে গুম খুন-নির্যাতনের বর্ণনাও তুলে ধরা হয়। জুলাই বিপ্লবের সময় হত্যাযজ্ঞ চালাতে কী কী করেছিলেন শেখ হাসিনা তা যখন ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর তখন এজলাসে পিনপতন নীরবতা।
১৩৫ পৃষ্ঠার মূল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তুলে ধরে এড. তাজুল ইসলাম বলেন, অপরাধের নিউক্লিয়াস এবং অপরাধীদের প্রাণভোমরা ছিলেন শেখ হাসিনা। গ্যাং অব ফোর হিসেবে ছিলেন ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক। তাদের যৌথ নির্দেশনা, পরিকল্পনা, উসকানিতে সারা দেশে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও ১৪ দল যে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে তা ক্রিমিনাল সংগঠন হিসেবে গণ্য করার শামিল।
পরে তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিশোধমূলক নয়, বিচার হবে প্রমাণনির্ভর। যেনো নতুন বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদী এই শক্তি ফিরে আসতে না পারে।
এদিন শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে ১৬ জুন।
আরটিভি/এএইচ