images

আইন-বিচার

জোরপূর্বক জমি দখল হলে ভুক্তভোগীর করণীয় কী?

শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫ , ০৬:৫৪ পিএম

বাংলাদেশে জোরপূর্বক জমি দখল একটি গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি জোর করে, বলপ্রয়োগে বা হুমকি দিয়ে অন্যের জমিতে প্রবেশ করে এবং সেটি নিজের দাবি করে ভোগদখল করে তাহলে তা আইন অনুযায়ী ফৌজদারি ও দেওয়ানি উভয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ

.দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় জোর করে জমি দখলকে স্পষ্টভাবে শাস্তিযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

.দণ্ডবিধি ৪৪১ ধারা: অনুমতি ছাড়া কারও জমিতে প্রবেশ করলে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ হিসেবে অপরাধ গঠন করে।

.দণ্ডবিধি ৫০৬ ধারা: ভয়ভীতি বা হুমকি দেখিয়ে জমি দখলের ক্ষেত্রে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যায়।

জরুরি করণীয়

.জমি দখলের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীকে দ্রুত নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে বলা হয়েছে—

.নিকটস্থ থানায় জিডি (GD) বা এফআইআর (FIR) করুন। জমির বিবরণ, ঘটনার সময়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ও অন্যান্য তথ্য উল্লেখ করতে হবে।

.স্থানীয় জনপ্রতিনিধি—চেয়ারম্যান, মেম্বার বা কাউন্সিলরের সহায়তায় প্রয়োজনে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

.উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে ভূমি অফিস তদন্তে নেমে পড়তে পারে।

সিভিল কোর্টে মামলা

.প্রশাসনিক বা সালিশি সমাধান কাজ না করলে সিভিল কোর্টে মামলা করার সুযোগ রয়েছে।

.জমির মালিকানা নিয়ে দেওয়ানি মামলা করা যায়।

.আদালত থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction) নেওয়া সম্ভব, যাতে দখলদার কোনো নির্মাণ বা পরিবর্তন করতে না পারে।

আদালতে জমির কাগজপত্র, খাজনা রশিদ এবং প্রমাণাদি জমা দিতে হয়।

সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি

আইনজীবীরা বলছেন, জমি দখলের অভিযোগ দ্রুত না করলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। দেরি হলে দখলকারী ফৌজদারি মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ পায় এবং এমনকি জমির মালিকানা দাবি করতেও পারে। তাই ভুক্তভোগীকে সময় হারানো উচিত নয়।

. যেখান থেকে সহায়তা পাওয়া যাবে

. থানা ও জেলা পুলিশের সহায়তা সেল

. জেলা প্রশাসকের কার্যালয়

. উপজেলা ভূমি অফিস

. জেলা লিগ্যাল এইড অফিস—অস্বচ্ছল ব্যক্তিরা বিনামূল্যে আইনজীবীর সহায়তা পেতে পারেন।

আরও পড়ুন
dolil

২০২৬ সালের জুনের মধ্যে বাতিল হচ্ছে যেসব দলিল

বিশেষজ্ঞদের মতে, জোরপূর্বক জমি দখল একটি সামাজিক অনাচার। তবে আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পেতে বাধা নেই। তাই দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজন হলে দক্ষ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।


আরটিভি/এসকে