images

আইন-বিচার

‘পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরবে’

রোববার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৫:২৪ পিএম

আমরা হাইকোর্টে পুরো সংশোধনী বাতিল চেয়েছিলাম। হাইকোর্ট কিছু কিছু অংশ বাতিল করেছেন। বাকিটা সংসদের বিবেচনার জন্য রেখেছেন। আমরা বলেছি হাইকোর্টের এই এপ্রোচ ভুল ছিল আইনগতভাবে। এটা সংশোধন করে আপিল বিভাগের হাইকোর্টের রায় বাতিল এবং পঞ্চদশ সংশোধনীকে পূর্ণাঙ্গ বাতিল করা উচিত। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আপিল বিভাগ বাতিল করলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে সংবিধানে ফিরে আসবে বলে জানান এ বিষয়ে চার আপিলকারীর আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া।

এ নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের তৃতীয় দিনের শুনানি শেষে রোববার (৭ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শরীফ ভূঁইয়া এমন মন্তব্য করেন। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চে শুনানি হয়।

ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, আমাদের শুনানি শেষ হয়েছে, তবে আরও দুজন আপিলকারী এবং পক্ষভুক্তদের শুনানি বাকি রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করা হয়েছিল। এই সংশোধনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০ করা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল, রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।

আরও পড়ুন
13

গুমের সরাসরি নির্দেশ দিতেন শেখ হাসিনা

এছাড়াও, অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ হিসেবে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান এবং সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান যুক্ত করা হয়।

এই সংশোধনী বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুলের শুনানি শেষে রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করার বিধানসহ সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য সংক্রান্ত কয়েকটি অনুচ্ছেদ বাতিল করেন। সেই আংশিক রায়ের বিরুদ্ধেই সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ এম হাফিজ উদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান লিভ টু আপিল করেন।

গত ১৩ নভেম্বর এই রায়ের বিরুদ্ধেই সুজন সম্পাদকসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি লিভ টু আপিল করেন। অন্য তিনজন হলেন- এম হাফিজ উদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান।

এছাড়া মোফাজ্জল হোসেন এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পৃথক দুটি লিভ টু আপিল করেন। সেই সঙ্গে বিএনপির পক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরীসহ কয়েকজন পক্ষভুক্ত হন।

আপিলকারীদের দাবি, পুরো সংশোধনী বাতিল করার।

আরটিভি/এএইচ