images

আইন-বিচার

যে জমি বিক্রি এখন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৩:২০ পিএম

ডিজিটাল ভূমি সেবা চালুর পর ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়লেও কিছু ঝুঁকিপূর্ণ জমির ক্ষেত্রে সরকার নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সাম্প্রতিক সরকারি ঘোষণায় ৬ ধরনের জমি বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিয়ম ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

নিষিদ্ধ ৬ ধরনের জমি

১. এজমালি (অবিভক্ত) জমি

যে জমিতে একাধিক ওয়ারিশের মালিকানা রয়েছে, সেখানে সব মালিকের সম্মতি ছাড়া কোনোভাবেই বিক্রি করা যাবে না। বাটোয়ারা দলিল থাকা মালিকরা শুধু নিজেদের অংশ বিক্রি করতে পারবেন।

২. জাল রেকর্ডভিত্তিক মালিকানা

অতীতে প্রতারণার মাধ্যমে তৈরি করা রেকর্ড বা নকল খতিয়ান দেখিয়ে মালিকানা দাবি করা জমি বিক্রি নিষিদ্ধ। সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে যাচাইয়ে প্রমাণ মিললে রেজিস্ট্রেশন বাতিল এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩. জাল নামজারিভিত্তিক মালিকানা

ভুয়া নামজারি বা অবৈধভাবে নাম খতিয়ানে তোলা হলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকেই ওই জমি বিক্রির সক্ষমতা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

৪. ভুয়া দাখিলাভিত্তিক মালিকানা

জাল দাখিলা ব্যবহার করে দখল নেওয়া বা মালিকানা দাবি করা জমিও বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ হবে।

৫. জবরদখলের জমি

জোরপূর্বক দখলে নেওয়া জমি বিক্রি করলে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী কঠোর শাস্তি পেতে হবে।

৬. খাস জমি

সরকারি খাস জমি ৯৯ বছরের বন্দোবস্ত পেলেও তা বিক্রি করা অবৈধ। বিক্রি ও ক্রয়ে জড়িত উভয় পক্ষই আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয়।

ডিজিটাল ব্যবস্থায় জালিয়াতি লুকানো কঠিন

ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের সকল ভূমি তথ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ায় এখন জালিয়াতি বা ভুয়া মালিকানা লুকানো প্রায় অসম্ভব। নাগরিকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন
dolil

এই কৌশলগুলো মানলেই ভুয়া দলিল চিনবেন সহজে

বিশেষজ্ঞদের মতে, জমি কেনার আগে মালিকানা বৈধতা যাচাই না করলে প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ে। তাই যে কোনো চুক্তির আগে ডিজিটাল রেকর্ড, নামজারি ও দাখিলা যাচাই অত্যন্ত জরুরি।

আরটিভি/এসকে