বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১২:১০ পিএম
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে র্যাব। নরসিংদী সদর থানা এলাকার একটি বিলে পানির ভেতর থেকে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে র্যাবের পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ১টি খেলনা পিস্তল এবং ৪১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মো. ফয়সাল (২৫) নামে একজনকে আটক করা হয়। পাশাপাশি গুলির ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা ও মাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাবের একটি সূত্র জানায়, শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ ওরফে শিপুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই নরসিংদীর ওই বিলে অভিযান চালানো হয়। ওয়াহিদ আহমেদের বাড়ি, যা ফয়সাল করিম মাসুদের শ্বশুরবাড়ি, নরসিংদী সদর থানা এলাকায় অবস্থিত। এর আগে রোববার ফয়সাল করিমের স্ত্রী পারভীন সামিয়া ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালত তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে, মঙ্গলবার(১৬ ডিসেম্বর) রাতেই র্যাবের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজধানীর আগারগাঁওয়ের কর্নেল গলিতে ফয়সাল করিমের বোনের বাসা এবং পাশের ভবনের মাঝের ফাঁকা স্থান থেকে ২টি ম্যাগাজিন, ১১টি গুলি ও ১টি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, ফয়সাল করিমের বোনের বাসার আশপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে ফয়সাল করিম ও তাঁর সহযোগী আলমগীর একটি মোটরসাইকেলে করে বাসা থেকে বের হন। পরে বিকেল ৪টার দিকে ফয়সাল, আলমগীর এবং ফয়সালের মা ও ভাগিনাকে দুই ভবনের মাঝের ফাঁকা স্থান থেকে কিছু বের করতে দেখা যায়। বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে ফয়সাল ও আলমগীর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সেখান থেকে চলে যান।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে বিজয়নগর এলাকায় শরিফ ওসমান হাদি একটি রিকশায় করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তির একজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন হাদি। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানকে প্রধান শুটার এবং আলমগীর হোসেনকে মোটরসাইকেল চালক হিসেবে শনাক্ত করে।
এ ঘটনায় ফয়সাল করিমের স্ত্রী, প্রেমিকা ও শ্যালকসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ রিমান্ডে নিয়েছে।
আরটিভি/এসকে