images

আইন-বিচার

হাদির ওপর হামলাকারীরা পুলিশকে ভুয়া লোকেশনে ঘুরিয়ে যেভাবে পালাল

বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১২:৪৮ পিএম

ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের পর অভিনব প্রযুক্তিগত কৌশল ব্যবহার করে পালিয়েছে হামলাকারীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে তারা একই সঙ্গে একাধিক মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভুয়া লোকেশন তৈরি করে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হামলার পরপরই প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ও মোটরসাইকেল চালক আলমগীরকে শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের গতিবিধি অনুসরণ করা হলেও সন্দেহভাজনরা সচল মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস নিজেরা বহন করেননি।

বরং এসব ডিভাইস অন্য মাধ্যমে চালু রেখে বারবার স্থান পরিবর্তন করানো হয়। ফলে পুলিশ তাদের অবস্থান ধরে ধরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালালেও সব লোকেশনই ছিল ভুয়া।

এই সময়ের মধ্যে সন্দেহভাজনরা রাজধানী ত্যাগ করে ময়মনসিংহ হয়ে হালুয়াঘাট এলাকায় পৌঁছায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে গুলিবর্ষণের পর তারা পল্টনের কালভার্ট রোড থেকে মোটরসাইকেলে করে নয়াপল্টন, শাহবাগ, বাংলামটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও আগারগাঁও হয়ে মিরপুর এলাকায় যায়।

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। তবে তারা দেশে আছে নাকি বিদেশে পালিয়েছে। এ বিষয়ে এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারের কোনো দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

অন্যদিকে, গুলিবিদ্ধ শরীফ ওসমান হাদি বর্তমানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে (এসজিএইচ) চিকিৎসাধীন। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষায়িত মেডিকেল টিম গঠন করেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সব স্বাস্থ্যগত রিপোর্ট পর্যালোচনা শেষে চিকিৎসকরা জানান, হাদির শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন ও অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি এখনো জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জন ও হাদির চিকিৎসায় যুক্ত ডা. আব্দুল আহাদ সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমকে জানান, হাদির ব্রেনে ইস্কেমিক পরিবর্তন (রক্ত সরবরাহ কমে যাওয়া) এবং ইডেমা বা ফোলা এখনো কমেনি।

আরও পড়ুন
HADI

যেভাবে হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করল র‌্যাব

চিকিৎসকদের মতে, একটি নির্দিষ্ট ‘টাইম উইন্ডো’ এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে শরীর ইতিবাচক সাড়া দিলে তার অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

আরটিভি/এসকে