বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৯:০০ পিএম
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদসহ দুজনকে ‘ফিলিপ’ নামের এক ব্যক্তি সীমান্ত পার করে দিয়েছেন বলে আদালতে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন দুই আসামি। বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার আদালতে রিমান্ড শুনানির সময় এই তথ্য উঠে আসে।
এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি সিবিয়ন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম রিমান্ড শুনানিতে জানান, ফিলিপ তাদের পরিচিত এবং তিনিই হাদিকে গুলি করা আসামিদের অবৈধভাবে ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে পার করে দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানিতে আসামি সিবিয়ন দিউ বলেন, ফিলিপের সাথে আমার আগে থেকেই পরিচয়। নিউজে ফিলিপের নাম দেখে আমি তাকে ফোন করলে সে জানায় যে সে দুইজনকে সীমান্ত পার করে দিয়েছে। অপর আসামি সঞ্জয় চিসিম বলেন, ঘটনার রাতে ফিলিপ আমাকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছিল। পরে জানায় কাজ হয়ে গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করেন, সিবিয়ন দিউ সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি জুয়েল আড়েংয়ের ভাগ্নে এবং তিনি সীমান্ত এলাকায় অবৈধ লোক ও মালামাল পারাপারের একটি ‘সিন্ডিকেট’ নিয়ন্ত্রণ করেন।
গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত রিকশায় থাকা হাদির মাথায় গুলি করা হয়। ঘাতক ফয়সাল করিম মাসুদ মোটরসাইকেলে এসে এই হামলা চালিয়েছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। গুরুতর আহত হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।
হাদিকে গুলি করার মূল পরিকল্পনাকারী ফয়সাল করিম মাসুদকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। ফয়সালের বাবা, মা, স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবীসহ এই মামলায় এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারী দল এখন ছায়া আসামি ‘ফিলিপ’ এবং ঘটনার পেছনে থাকা অর্থদাতা ও মদদদাতাদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে।
আরটিভি/এআর