বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ , ০৭:২৬ পিএম
রাজধানীর মগবাজারে ন্যায্যমূল্যে পাঞ্জাবি বিক্রি করায় ‘নবীন ফ্যাশন’ নামে একটি শোরুম জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের নীরব ভূমিকার কারণে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) শোকজ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোকানটি খুলে দেওয়ার জন্য আদালত থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ প্রদান করেন।
আদেশে বলা হয়েছে, পুলিশের সামনেই মগবাজারের বিশাল সেন্টার মার্কেটে একদল লোক উশৃঙ্খল আচরণ করে দোকানটি বন্ধ করে দিলেও পুলিশ সদস্যদের নির্লিপ্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। পুলিশের এমন পেশাদারিত্ববিরোধী আচরণ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে ওসিকে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
মূলত ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২০ মার্চ, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঠিক আগের দিন। ‘নবীন ফ্যাশন’-এর শোরুমে মাত্র ৩০০ টাকায় মানসম্মত পাঞ্জাবি ও পাজামা বিক্রি শুরু হলে আশপাশের ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ উঠেছে, পাশের দোকানদাররা নবীনের মালিককে ৪ হাজার ৫০০ টাকার নিচে পাঞ্জাবি বিক্রি না করতে চাপ দেন। তাদের দাবি ছিল, এত কম দামে পণ্য বিক্রি করা মানে ‘রিলিফ’ দেওয়া, যা বাজারের সিন্ডিকেট ব্যবস্থার প্রতিকূলে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের সহায়তায় জোরপূর্বক শোরুমটি তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়।
এর জেরে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফেজ এনামুল হাসান নবীন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল গ্রাহকের কাছে ন্যায্যমূল্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়া। আমাদের উৎপাদন খরচ কম এবং আমরা প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু সিন্ডিকেট চক্র আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এমনকি ভিডিও ডিলিট করার জন্য আমাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।যে
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষ ও গরিব-দুঃখীদের সেবায় এই প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ ব্যয় করা হতো। কিন্তু প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ায় তিনি আর দেশে ব্যবসা করতে নিরাপদ বোধ করছেন না। সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি দেশত্যাগের ঘোষণা দেন এবং ঢাকা ত্যাগ করেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি লিখেছেন, “সিংহের মতো বাঁচতে চাই। কিন্তু সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না। তাই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো একদিন দেশে ফিরব ইনশাআল্লাহ।”
আরটিভি/এআর