শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:৪১ পিএম
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে হুমকি দিয়ে বক্তব্য দেওয়া চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরীকে আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে ৫৬ লাখ ৭১ হাজার টাকার সম্পদ অর্জনের মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, মুজিবুল হক চৌধুরী জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৫৬ লাখ ৭১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন, যা আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৭(১) ধারায় তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও একই অঙ্কের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, মুজিবুল হক জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৫৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। তিনি ১৯৯২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে প্রবাসে থাকলেও দেশে অর্থ পাঠানোর কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তদন্ত শেষে দুদক তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। ২০২৫ সালের ৩ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় দেওয়া হয়।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ সাহেদ জানান, মামলার পর থেকে মুজিবুল হক পলাতক রয়েছেন। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন।
এর আগে ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর মুজিবুল হক প্রকাশ্য জনসভায় পিটার হাসকে হুমকি দেন। ওই বক্তব্যকে ‘সহিংস’ হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে মুজিবুল হক চৌধুরীকে বরখাস্ত করা হয়।
আরটিভি/টিআর