images

আইন-বিচার

রামিসা হত্যা মামলার রায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া 

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬ , ০১:৩৭ পিএম

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ ও ভুক্তভোগীর বাবা। তবে এই রায়ে একই রকম সন্তুষ্টির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহও। 

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেহীন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, অপরাধী অপরাধের বিচার পেয়েছে, আমি সন্তুষ্ট। প্রধান আসামি সোহেল রানা বিজ্ঞ আদালতে নিজের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। এমনকি আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতেও নিজের দোষ স্বীকার করেন। রায়ে সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আরও পড়ুন
Web-Image

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা 

এর আগে আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আজ সকালে কড়া নিরাপত্তায় আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। পরে বেলা ১১টা ৫ মিনিটে বিচারক মামলার রায় পড়া শুরু করেন। সব সাক্ষ্য-প্রমাণের আলোকে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন আদালত।

আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, জরিমানার টাকা আদায়ের পর ভুক্তভোগী শিশুটির আত্মীয়দের সেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। দণ্ডিত আসামিরা এই অর্থ প্রদানে ব্যর্থ হলে জেলা কালেক্টর দোষী ব্যক্তিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সেই টাকা আদায়ের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।

এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে নিজের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এই রায়ে আমি শতভাগ খুশি। রায়ে আমার মনের যে প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা পূরণ হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমি শতভাগ আশাবাদী যে এই রায় দ্রুত কার্যকর হবে। আল্লাহ পাকের রহমতে ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সময়ের মধ্যেই আমরা কাঙ্ক্ষিত বিচার পেয়েছি।’

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রামিসার বাবা আরও বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিক ও বাংলাদেশের আপামর জনতা—যারা আমার ও আমার পরিবারের এই কঠিন বিপদের সময়ে মানসিকভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের সবার কাছে আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। এখন আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের এই রায় দ্রুত কার্যকর দেখতে চাই।’

আরটিভি/এআর