images

আইন-বিচার / রাজধানী

ন্যায়বিচারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে: রিজভী

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ , ১০:৫৪ এএম

আমাদের সমাজে, ইতিহাস-ঐতিহ্যে ন্যায়বিচার সম্পর্কে যে ধারণা রয়েছে, সেই ন্যায়বিচারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার (১ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে সমিতির সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের সমাজে, ইতিহাসে-ঐতিহ্যে ন্যায়বিচার সম্পর্কে যে ধারণা রয়েছে, সেই ন্যায়বিচারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আর এই সুপ্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব বিশেষ করে তরুণ আইনজীবীদের। আমরা দেখেছি শেখ হাসিনার আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আদালতের রায় আসতো। সেই পরিস্থিতি অব্যাহত রাখা যাবে না। ন্যায়বিচারকে ন্যায়বিচার হিসেবেই নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আমাদের বরেণ্য আইনজীবীরা কেউ শেখ হাসিনার বিষাক্ত ছোবল থেকে, কালো থাবা থেকে মুক্তি পায়নি। সে সময় আইনজীবীরা গণতন্ত্রের প্রহরী হিসেবে কাজ করেছে। কারণ, আইনজীবীদের সমুজ্জ্বল উপস্থিতি এই আদালত প্রাঙ্গণে না থাকলে শেখ হাসিনাকে দুর্বল করা যেত না।

আরও পড়ুন
Web-Image4

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল

তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী সুশাসনের জন্য, রুল অব ল’ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন এবং কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যেকটি কাজের মধ্যে আমি আইনের শাসনের বহিঃপ্রকাশ দেখছি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি বলেন, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা ছাড়া আইনের শাসন আমরা আশা করতে পারি না। যেকোনো দেশের পরিস্থিতি বোঝা যায়, সে দেশের বিচার ব্যবস্থা কীরকম তা দেখে। দেশের বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন থাকে দুর্নীতিমুক্ত থাকে তাহলে সে দেশ এগিয়ে যায়। দেশের বিচার বিভাগ, গণতন্ত্র, আইনের শাসন মানবাধিকার রক্ষায় আমরা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি কাজ করে যাব।

অনুষ্ঠানে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মো: বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, আমাদের এই সরকারের সামনে দুর্গম পথ। ডানে ফ্যাসিস্ট, বামে সুপ্ত-গুপ্ত আর পেছনে জুলাই চেতনা। এই সব মিলিয়েই সরকারকে এগোতে হচ্ছে। 

এই সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসলাম চৌধুরী সরকারি দলের এমপি হিসেবে পাস করে এসে শপথ নিতে পারলো না। দল থেকে বা সরকার থেকে কেউ এটা নিয়ে কোনো আজেবাজে সমালোচনা করেনি। এই সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করে না। বিচার বিভাগ যে স্বাধীন মতো চলছে এটাই তার নমুনা। আজ থেকে যদি এই দেড় বছর আগে অর্থাৎ ৫ আগস্টের আগে এটা হলে আপিল বিভাগের সবাইকে দেশ ছাড়া লাগতো।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আবু জাফর খান ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. রইস উদ্দিন প্রমুখ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

এ সময় কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরটিভি/আইএম